বাংলাহান্ট ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তদন্তে নতুন মোড় আনল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA। হামলা সংক্রান্ত মামলায় দাখিল করা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদের (Hafiz Saeed) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এনআইএ-র দাবি, তদন্তে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগসূত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই পাকিস্তান তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারতের তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চার্জশিটে করা অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। ফলে পহেলগাঁও হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা আরও একবার সামনে চলে এসেছে।
পহেলগাঁও হামলায় NIA-র অভিযোগ খারিজ করে হাফিজ সইদকে (Hafiz Saeed) ক্লিনচিট পাকিস্তানের
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এনআইএ-র চার্জশিটের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ভারতের তদন্তকারী সংস্থা একটি “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত” নথি তৈরি করেছে। তাঁর অভিযোগ, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ভারত এটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। আন্দ্রাবি আরও দাবি করেন, পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে পাকিস্তানকে জড়ানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, ভারত এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আনতে পারেনি। তাই পাকিস্তান এই সমস্ত অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। একই সঙ্গে তিনি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তদন্তের দাবি জানান (Hafiz Saeed)।
আরও পড়ুন: বহু অপেক্ষার অবসান! ২১ জুলাইয়ের মধ্যেই বকেয়া DA-র টাকা পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে? জানুন
অন্যদিকে, NIA-র বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত, তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গত ৬ জুলাই আদালতে জমা দেওয়া এই চার্জশিটের মাধ্যমে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা এবং হাফিজ সইদের কথিত সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে এই মামলায় এনআইএ মোট ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট আদালতে পেশ করেছে, যেখানে একাধিক নথি, সাক্ষ্য, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং তদন্তের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এই মামলায় প্রথম চার্জশিট দাখিল করেছিল এনআইএ। সেই চার্জশিটে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার সাজিদ জাটের নাম, ‘অপারেশন মহাদেব’-এ নিহত তিন জঙ্গির পরিচয় এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি লস্কর-ই-তৈবা এবং তার সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট-এর কথিত ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন তথ্যও তদন্তে তুলে ধরা হয়। সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে সেই তদন্তকে আরও বিস্তৃত করে নতুন তথ্য ও প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে বলে এনআইএ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রকাশিত NEET-UG রেজাল্ট! কোথায়, কীভাবে দেখবেন স্কোরকার্ড?
তবে এই মামলার চূড়ান্ত সত্যতা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত আদালতেই বিচার হবে। NIA তাদের তদন্তের ভিত্তিতে যে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে, সেটি বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ মাত্র। অন্যদিকে পাকিস্তান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পহেলগাঁও হামলার তদন্ত এবং তার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে (Hafiz Saeed)।













