অবসাদ থেকে মাথায় আসে সুপারহিট আইডিয়া! এক বছরেই ৩.৬ কোটি টাকা উপার্জন চিরায়ুর

Published on:

Published on:

Success Story of Chirayu Goyal will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: শূন্য থেকে শুরু করে কিভাবে সফলতার (Success Story) শিখরে পৌঁছানো যায় তাঁর জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ হলেন চিরায়ু গোয়েল। এক সময় কাজের সূত্রে প্রায়ই দিল্লিতে যাতায়াত করতে হতো ইন্দোরের বাসিন্দা চিরায়ু গোয়েলকে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর তিনি পরিবারের রিয়েল এস্টেট ও ধূপকাঠির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু ব্যবসায়িক সফরের ফাঁকে প্রতিদিন সকালের ব্রেকফাস্টে একটি সমস্যার মুখোমুখি হতেন তিনি। ইন্দোরের বিখ্যাত পোহা দেশের বিভিন্ন শহরে পাওয়া গেলেও সেই আসল স্বাদ যেন কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পাঁচতারা হোটেলের বিলাসবহুল বুফে হোক কিংবা রাস্তার ধারের খাবারের দোকান, কোথাও মিলছিল না পরিচ্ছন্নতা ও খাঁটি ইন্দোরি স্বাদের সঠিক মেলবন্ধন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় একটি নতুন ব্যবসায়িক ভাবনা। সেই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘পোহা প্ল্যানেট’, যা আজ দেশের দ্রুত বর্ধনশীল ফুড স্টার্টআপগুলির অন্যতম।

চিরায়ু গোয়েলের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

চিরায়ুর উদ্যোগের শুরুটা খুব বড় আকারে হয়নি। পরিবারের সমর্থন এবং প্রায় ১২ লক্ষ টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ নিয়ে তিনি প্রথম ক্লাউড কিচেন চালু করেন গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫০ এলাকায়। তবে ব্যবসা শুরু করার আগে প্রায় এক বছর ধরে তিনি গবেষণা চালান, কীভাবে ইন্দোরের স্বাদ অন্য শহরেও একইভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়। সেই লক্ষ্যেই পোহা তৈরির জন্য ব্যবহৃত কাঁচামাল, বিশেষ করে বিখ্যাত ‘জিরাবন’ মশলা, সরাসরি ইন্দোর থেকে আনা শুরু হয়। শুধু তাই নয়, পোহার উপর ছড়িয়ে দেওয়া রতলামের সেভ ও নোনতা বুন্দিও বহু বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠিত দোকান থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি রান্নাঘরে একই স্বাদ বজায় রাখতে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি অনুসরণ করা হয়, যাতে গ্রাহকরা প্রতিবার একই মানের খাবার পান (Success Story)।

আরও পড়ুন: PoK-তে মৃত্যুমিছিল! পাক সেনার অভিযানের নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল রাষ্ট্রপুঞ্জ

বর্তমানে দিল্লি-এনসিআর এবং বেঙ্গালুরু মিলিয়ে পোহা প্ল্যানেটের মোট নয়টি ক্লাউড কিচেন রয়েছে। তাদের মেনু শুধু সাধারণ পোহার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভেজ পোহা, আলু কান্দা পোহা, পনির পোহা, ইন্দোরের জনপ্রিয় উসাল, সাবুদানা খিচুড়ি, ভেল এবং কালা চানা চাটের মতো একাধিক পদও রয়েছে তালিকায়। শুরুতে কিছু জায়গায় আউটলেট চালু করেও প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় কৌশল বদলাতে হয়েছিল চিরায়ুকে। বিশেষ করে কাশ্মীর গেট মেট্রো স্টেশনের একটি আউটলেট থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তাঁকে ব্যবসার মডেল নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করে। সেই শিক্ষা পরবর্তীতে ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

আজ ডিজিটাল ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে পোহা প্ল্যানেটের রেটিং ৪.৫ থেকে ৪.৬-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। যদিও ব্যবসার পথে চ্যালেঞ্জও কম নয়। অ্যাগ্রিগেটর কমিশন এবং বিভিন্ন ধরনের ডিসকাউন্ট মিলিয়ে মোট আয়ের একটি বড় অংশ প্ল্যাটফর্মগুলির কাছে চলে যায়। তবু সংস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে তাদের নিয়মিত গ্রাহকরা। চিরায়ুর দাবি, ৪৫ শতাংশেরও বেশি ক্রেতা বারবার ফিরে আসেন, যা তাদের ব্যবসার স্থায়িত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাঁর মতে, কোনও খাদ্য ব্যবসার আসল সাফল্য বিক্রির অঙ্কে নয়, বরং কতজন গ্রাহক বারবার সেই স্বাদের জন্য ফিরে আসছেন, তার উপর নির্ভর করে।

Success Story of Chirayu Goyal will amaze you.

আরও পড়ুন: ৩২ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা! ২১ জুলাইয়ের আমন্ত্রণ পেল না শহীদ পরিবার

এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলও মিলেছে দ্রুত। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই পোহা প্ল্যানেট প্রায় ৩.৬ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে। এখন চিরায়ুর লক্ষ্য আরও বড়। শুধুমাত্র ক্লাউড কিচেনের গণ্ডিতে আটকে না থেকে তিনি ফিজিক্যাল আউটলেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চান। পাশাপাশি কর্পোরেট ও বাল্ক অর্ডারের ক্ষেত্রেও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে সংস্থাটি। ভবিষ্যতে দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয়দের কাছে ইন্দোরের আসল স্ট্রিট ফুডের স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। একসময় যে তরুণ নিজের প্রিয় সকালের খাবারের খোঁজে হতাশ হতেন, আজ সেই অভিজ্ঞতাকেই পুঁজি করে তিনি গড়ে তুলেছেন বহু কোটি টাকার সফল ব্যবসা (Success Story)।