বাংলা হান্ট ডেস্ক: জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মাথায় রেখেই এখন বৈদ্যুতিক যানবাহনের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঠিক এই আবহেই অ্যাভিয়েশন সেক্টরে কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং সাস্টেনেবল ট্রাভেল উৎসাহিত করতে, ব্যাটারি-ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড বিমানের উড়ান (Electric Aircraft) এবার বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকায় (America) বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক বিমান ‘এক্স১’ (X1) -এর সাম্প্রতিক সফল উড়ান সম্পন্ন হয়েছে। যেটি প্রমাণ করেছে যে, ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক বিমানগুলি শুধু পরিবেশবান্ধবই হবে না, বরং প্রচলিত জেট বিমানের তুলনায় পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। ভারতের মতো একটি বৃহৎ ও দ্রুত বর্ধনশীল বিমান চলাচল বাজারে, স্বল্প দূরত্বের আঞ্চলিক রুট এবং ছোট শহরগুলিকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বিমানের সম্ভাবনা অপরিসীম। যদি ভারত এই দিকে দ্রুত পরিকাঠামো গড়ে তোলে, তবে আগামী দশকগুলিতে ভারতে অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণ অত্যন্ত সাশ্রয়ী, শব্দহীন এবং সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত হয়ে উঠবে।
সফল বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক বিমানের (Electric Aircraft) প্রথম উড়ান:
এক্স১-এর ঐতিহাসিক প্রথম উড়ান: এবার আপনাদের বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক বিমানের প্রথম উড়ান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাবো। সুইডিশ অ্যারোস্পেস কোম্পানি হার্ট অ্যারোস্পেসের এই পাইলটযুক্ত এক্স১ ডেমনস্ট্রেটর বিমানটি গত বুধবার অর্থাৎ ১২ অগাস্ট নিউইয়র্কের প্ল্যাটসবার্গ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে উড়ান শুরু করে। বিমানটি প্রায় ২৭ মিনিট আকাশে ছিল এবং ভূমি থেকে ১,১০০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এই উড়ান চলাকালীন বিমানটি ১ মেগাওয়াটের (MW) বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছিল এবং পুরো উড়ানে ব্যবহৃত বিদ্যুতের খরচ ছিল মাত্র ৫ ডলার। অর্থাৎ ৫০০ টাকারও কম।

এই বৈদ্যুতিক বিমানের বিশেষত্ব: জানিয়ে রাখি যে, এই বৈদ্যুতিক বিমানটির ডানার বিস্তার ১০৬ ফুট (৩২ মিটার) এবং দৈর্ঘ্য ৭৬ ফুট (২৩ মিটার)। উড়ানের সময় এর ওজন ছিল ২৫,০০০ পাউন্ডের বেশি, বা ১১,৩৪০ কিলোগ্রাম। পরীক্ষাটি FAA-র স্পেশাল এয়ারওর্থনেস সার্টিফিকেট ইন দ্যা এক্সপেরিমেন্টাল ক্যাটাগরির অধীনে পরিচালিত হয়েছিল। যার মধ্যে ট্যাক্সি, টেকঅফ, ক্লাইম্ব এবং ল্যান্ডিং অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরও পড়ুন: ২০ বছরের পুরনো নিয়ম পরিবর্তন সরকারের! এবার টিভিতে আরও বেশি সময় ধরে দেখা যাবে বিজ্ঞাপন?
ইএস-৩০ বাণিজ্যিক বিমানের পরিকল্পনা: উল্লেখ্য যে, ইন্টারেস্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এক্স১ বিমানটি আসলে হার্ট অ্যারোস্পেস-এর আসন্ন ইএস-৩০ প্রোডাকশন এয়ারলাইনারের একটি ডেমনস্ট্রেটর।
ইএস-৩০ হবে একটি প্রচলিত ফিক্সড-উইং এবং হাইব্রিড-ইলেকট্রিক রিজিওনাল এয়ারলাইনার. যা ৩০ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম এবং ২০৩১ সালের মধ্যে এটি পরিষেবা শুরু করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, এয়ার কানাডা এবং জেএসএক্স-এর মতো সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই বিমানটির জন্য বুকিং বা কমিটমেন্ট দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় সেনায় যুক্ত হচ্ছে ৮৪০ টি শক্তিশালী ড্রোন! টাটা-নিবে পেল ১,৫৭৭ কোটির অর্ডার
স্বল্প খরচ এবং পরিবেশবান্ধব: সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল প্রচলিত আঞ্চলিক বিমানের তুলনায় ইলেকট্রিক প্রোপালশনের মাধ্যমে বিমানের উড়ান বিমান পরিচালনার খরচ ৪০ শতাংশের বেশি কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেট ফুয়েলের ক্রমবর্ধমান মূল্যের (যা অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রতি গ্যালনে গড়ে ৩.৫ ডলার ছিল) আবহে, এই ব্যাটারিচালিত বিমানগুলি অ্যাভিয়েশন সেক্টরে একটি সাশ্রয়ী ও সাস্টেনেবল বিকল্প হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।













