জোরকদমে প্রস্তুতি RBI-র! প্লাস্টিক নোট তৈরির লক্ষ্যে জারি গ্লোবাল টেন্ডার

Published on:

Published on:

Reserve Bank of India has issued a global tender for the production of plastic notes.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে কাগজের নোটের পরিবর্তে ভবিষ্যতে আরও টেকসই ও নিরাপদ পলিমার নোট চালুর সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। সেই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (Reserve Bank of India) নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড  বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্থার কাছে পলিমার শিট সরবরাহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে। যদিও এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্যোগ, তবুও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দিনে ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। পলিমার নোট (Polymer Note) কাগজের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই, জল ও আর্দ্রতা প্রতিরোধী এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় বিশ্বের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে।

প্লাস্টিক নোট তৈরির লক্ষ্যে গ্লোবাল টেন্ডার জারি করল RBI (Reserve Bank of India):

সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিআরবিএনএমপিএল প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৮,০০০ রিম পলিমার শিট কেনার পরিকল্পনা করেছে। প্রতিটি রিমে থাকবে ৫০০টি শিট। জানা গিয়েছে, দুটি পৃথক মূল্যমানের নোটের জন্য এই শিট ব্যবহার করা হবে এবং প্রতিটি মূল্যমানের জন্য ৩৪,০০০ রিম করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই শিটগুলো বিশেষ ধরনের নোট মুদ্রণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হবে। আপাতত এটি পরীক্ষামূলক ও প্রাথমিক চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে হলেও ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়লে বৃহত্তর পরিসরে ক্রয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না (Reserve Bank of India)।

আরও পড়ুন: চিকিৎসা গ্রহণে হচ্ছেন না রাজি! হাসপাতাল থেকে চিঠি লিখে কী বার্তা দিলেন সোনম?

সূত্রের খবর, প্রথম পর্যায়ে ১০ ও ২০ টাকার নোট পলিমারে ছাপানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এ নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। এই নোটগুলিতে ব্যবহৃত কালি এবং নিরাপত্তা প্রযুক্তিও হবে বিশেষ মানের। পরিকল্পনা সফল হলে পরবর্তীতে উচ্চ মূল্যমানের নোটগুলিকেও একই প্রযুক্তির আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে শুধু নোটের স্থায়িত্বই বাড়বে না, জাল নোট রোধেও বড় ভূমিকা পালন করবে নতুন ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে নোট বদলানোর খরচও কমে আসতে পারে।

পলিমার শিটগুলিতে একাধিক আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আগে থেকেই সংযুক্ত থাকবে। এর মধ্যে থাকবে স্বচ্ছ উইন্ডো, বিশেষ প্রতিকৃতি অংশ, উজ্জ্বল সংখ্যার ব্যবহার, চৌম্বকীয় নিরাপত্তা রেখা, ছায়া প্রতিবিম্ব এবং রঙ পরিবর্তনকারী নকশা। এই বৈশিষ্ট্যগুলি জালিয়াতি অনেক কঠিন করে তুলবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, ব্যাঙ্ক এবং এটিএম মেশিনের পক্ষেও আসল নোট শনাক্ত করা আরও সহজ হবে। ভারতীয় মুদ্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

Reserve Bank of India has issued a global tender for the production of plastic notes.

আরও পড়ুন: PoK-তে মৃত্যুমিছিল! পাক সেনার অভিযানের নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল রাষ্ট্রপুঞ্জ

টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও রাখা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা শর্ত। আবেদনকারী সংস্থাগুলিকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের কার্যক্রম কোনওভাবেই চিন বা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত নয়। এমনকি ওই দুই দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহেরও অনুমতি থাকবে না। ভারতীয় ও বিদেশি, উভয় ধরনের সংস্থাই এই টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে, তবে তাদের অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং আগে কোনও দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বা মুদ্রা মুদ্রণ সংস্থাকে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত পলিমার শিট সরবরাহ করার রেকর্ড দেখাতে হবে। পাশাপাশি কমপক্ষে ২০,৪০০ রিম শিট সরবরাহের সক্ষমতা, আর্থিক স্থিতি এবং উৎপাদন ক্ষমতার প্রমাণও জমা দিতে হবে। পরীক্ষার জন্য ন্যূনতম ১০টি নমুনা শিট ল্যাবে জমা দেওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে। সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভারতীয় মুদ্রা ব্যবস্থায় পলিমার নোটের যুগ শুরু হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হবে (Reserve Bank of India)।