বাংলা হান্ট ডেস্ক: বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর আগামীকাল অর্থ্যাৎ মঙ্গলবার ১০০ দিন সম্পন্ন করবে বিজেপি সরকার (BJP Government)। তার আগেই আজ অর্থ্যাৎ সোমবার দেরাজ গলায় দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ঘোষণা করলেন, ‘সফলতম সরকার’।
সফলতম সরকার ঘোষণা দিলীপ ঘোষের
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এদিন জোর গলায় বললেন,’সবচেয়ে সফলতম সরকার। ১০০ দিনের কোন সরকার এত সিদ্ধান্ত নেয়নি, যত প্রকল্প বন্ধ ছিল চালু হয়ে গেছে, যেসব আইনের জন্য পশ্চিমবাংলায় কাজ করতে অসুবিধা হতো সেগুলো হটানো হয়ে গেছে। কাজ করার রাস্তা আমরা পরিষ্কার করে নিয়েছি এবং যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তার লাভ খুব তাড়াতাড়ি সাধারণ মানুষ পাবেন।’
সম্প্রতি বাঁকুড়ার ইন্দাসে CJP অর্থ্যাৎ ককরোচ জনতা পার্টির প্রোটেস্টে যাওয়ার জন্য একজনকে মারধর করা হয় এবং তার বাবা মারা গেছেন। এপ্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতেই বিজেপি নেতা এদিন বললেন, ‘কোথায় সিজিপি আছে, কারা নেতা আমরা তো জানিনা, পাবলিকও জানে না। কিছু লোক এই সুযোগে নেতা হওয়ার সুযোগ খুঁজছেন। যদি উৎপাত করার চেষ্টা করে পুলিশ তাকে দেখবে।’
আরও পড়ুনঃ ‘৩১শে মার্চের মধ্যেই স্বচ্ছতার সাথে ১ লক্ষ নিয়োগ’, পুরুলিয়া থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত। এপ্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বললেন, ‘আয়ুষ্মান ভারত আমরা আরও আগে রেজিস্ট্রেশন করতে বলেছিলাম। কালকে ঘোষণা হয়ে গেল সরকারের সঙ্গে এমওএস সাইন হয়ে গিয়েছে। তারপরে অমৃত দৃষ্টি নাকি আরও একটা নতুন চোখের জন্য, আরও বিশেষভাবে। তো অনেকগুলো প্রকল্প চালু হলে তার লাভ সাধারণ মানুষ পাবেন, আজ থেকেই পেতে শুরু করবেন।’
সম্প্রতি তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানান প্রশ্ন উঠতে করেছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। বিশেষ করে আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে সদ্য বিভাজিত নব তৃণমূল এবং কালীঘাট তৃণমূলের মধ্যে। বলা হচ্ছে, তৃণমূলেরই এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে, এখন তর্কাতর্কি লেগে গিয়েছে কোন শিবির প্রয়াত তৃণমূল নেতাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে তাই নিয়ে।
রাজ্যের বিরোধী শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ এদিন বললেন, ‘তৃণমূলের যে ব্ল্যাকমেইলিং, যে থ্রেট কালচার এবং যে দুর্নীতির রাজনীতি সেইজন্য তৃণমূলের মধ্যে যারা ছিলেন ভদ্রলোক, ভালো মানুষ তারাই বেশি পীড়িত হয়েছেন। আজকে বোঝা যাচ্ছে, এতদিন ভয়ে কেউ কিছু বলছিলেন না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ সুইসাইডও করছেন। খুবই দুঃখের বিষয় এটা।’
আরও পড়ুনঃ ‘খেলা হবে দিবসের নামে রক্ত নিয়ে খেলেছেন!’ মমতাকে নিশানা করে বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা
প্রসঙ্গত প্রয়াত আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সুইসাইড নোটে লিখেছেন, ‘আমি আর সহ্য করতে পারলাম না এত অপমান। এই অপমান গুলো কি প্রাপ্য ছিল?’ এপ্রসঙ্গে দিলীপবাবু সাফ বললেন, ‘এই অপমান, এই অত্যাচার থেকে মুক্তির জন্যই পশিমবঙ্গের মানুষ ভোট দিয়ে নতুন সরকার নিয়ে এসেছে। আমরাও নজর রাখছি, দ্বিতীয়বার যেন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
অন্যদিকে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার কোন রাগ ছিল না, অভিমান ছিল না। তারই প্রমাণ হিসাবে কুণাল ঘোষ দাবী করেছেন, ‘ফেসবুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই ছবি আছে। তাকে প্ররোচনা করে, জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ওই নব তৃণমূলে।’ যদিও সেসব দাবী উড়িয়ে দিলীপ ঘোষের স্পষ্ট দাবী, ‘দেখুন তার শ্রদ্ধা-ভক্তি- ভালোবাসা কী কারণে অনুরাগ সেটা তো আমরা জানি না। তো একসময় যারা গালাগালি দিয়েছেন তারা এখন অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হচ্ছেন । এইসব নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথার করবেন না। মানুষ বিদায় দিয়েছেন ভুলে যান।’













