দানের রক্ত বেচে কোটি কোটি টাকার আয়! বড় দুর্নীতির হদিশ কলকাতার ৭ ব্লাড ব্যাঙ্কে

Published on:

Published on:

Blood Bank Scam in Kolkata
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ চিকিৎসার প্রয়োজনে বা এমার্জেন্সিতে রক্তের প্রয়োজন হলে ব্লাড ব্যাঙ্কই (Blood Bank) ভরসা। কিন্তু এখানেও চলে বেআইনি চক্র। সম্প্রতি দক্ষিক কলকাতায় এমনই একটি রক্ত পাচারকারী চক্রের হদিশ মিলেছে। যেমনটা জানা যাচ্ছে, প্রায় ৬ কোটি টাকার ব্যবসাও হয়েছে যাতে জড়িত রয়েছে ৭টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক। স্বাস্থ্য দফতরের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট।

কলকাতায় কোটি কোটি টাকার বেআইনি রক্ত পাচার চক্র

সম্প্রতি রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা যায় বেআইনি রক্ত ও প্লাজমা পাচারের চক্রের কথা। জানা যায়, কমপক্ষে ৭টি ব্লাড ব্যাঙ্ক জড়িত রয়েছে এই দুস্কর্মের সাথে। যেখানে কেন্দ্রীয় নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করেই রক্তদান শিবিরের দেওয়া রক্ত ও প্লাজমা চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। এরপর দক্ষিণ কলকাতার পদ্মপুকুর এলাকার এক নামী ব্লাড ব্যাঙ্কে হানা দেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা।

সমস্ত কাগজ, স্টক ও নথি খতিয়ে দেখতেই রীতিমত চোখ কপালে সকলের। ২০২৬ সালের ৬ মাসের মধ্যেই কোনোরকম পারমিশন ছাড়াই প্রায় ৭৮০০ লিটার লোহিত রক্তকণিকা বিহার, ঝাড়খন্ড ও উত্তরপ্রদেশে পাঠানো হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ লোহিত রক্ত কণিকার বদলে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকাও মিলেছে। এছাড়াও মুম্বাই ও হায়দ্রাবাদের ৩ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিকে ৬৩০০ লিটার প্লাজমা বিক্রি করে প্রায় ৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মন জিতলেন মুখ্যমন্ত্রী! বিশ্বকাপ ফাইনালের আবহে অনাথ শিশুদের বিশেষ চিঠি ও উপহার পাঠালেন শুভেন্দু

বড় মাথার যোগ সন্দেহে চলছে তদন্ত

স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিকের মতে, রক্ত কোনো ব্যবসার জিনিস নয়। এটা মানুষের জন্য জীবনদায়ী একটা উপাদান। মানুষের আবেগ কাজে লাগিয়ে যারা এই ধরণের অসাধু কাজকর্ম চালাচ্ছে তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। এই চক্র আরও বড় হতে পারে  ও কোনো বড় মাথা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে যেই থাকুক না কেন, তদন্ত করে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এক রাজ্য থেকে রক্ত অন্য রাজ্যে পাঠানোর কিছু নিয়ম রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী এই কাজের জন্য স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল ও ন্যাশনাল বল্ড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল উভয়ের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন। কিন্তু একেত্রে কোনো নিয়মই মানা হয়নি।