বাংলাহান্ট ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party)। তবে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই বড় বাধার মুখে পড়েছে দলটি। দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, সংসদ অভিযানের জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, যন্তর মন্তরে চলতে থাকা দলের অনশন কর্মসূচিকেও তারা বৈধ বলে মনে করছে না। ফলে সোমবারের নির্ধারিত কর্মসূচি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সংসদ অভিযানের অনুমতি পাবে না ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party), স্পষ্ট জানাল দিল্লি পুলিশ
শনিবার দিল্লি পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তা জানান, সংসদ অভিযানের জন্য সিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি। এমনকি শেষ মুহূর্তে আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, সংসদ ভবন ও তার আশপাশের এলাকা দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি। সেখানে বড় মিছিল বা জমায়েত আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সাংসদ, সরকারি আধিকারিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাতায়াত থাকে। ফলে নিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই এই ধরনের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় (Cockroach Janata Party)।
আরও পড়ুন: অবসাদ থেকে মাথায় আসে সুপারহিট আইডিয়া! এক বছরেই ৩.৬ কোটি টাকা উপার্জন চিরায়ুর
দিল্লি পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে যে আন্দোলন চলছে, সেটিও নির্ধারিত অনুমতির সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এক দিনের কর্মসূচির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন অনুমতি না নিয়েই অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাই বর্তমান কর্মসূচিকে তারা নিয়মবহির্ভূত বলেই মনে করছে। অন্যদিকে সিজেপির নেতাদের দাবি, তারা বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন। লিখিত অনুমতির আবেদন না করা হলেও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয়েছিল। তাই আন্দোলনকে অবৈধ বলা ঠিক নয় বলেই দলের মত।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশে ইতিমধ্যেই র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স-সহ শতাধিক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে এবং সোমবারের সম্ভাব্য মিছিলের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আধাসামরিক বাহিনীর ইউনিটকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় একাধিক পুলিশ ভ্যান, ব্যারিকেড এবং নজরদারি ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

আরও পড়ুন: পালানোর চেষ্টা করলেই কুমিরের মুখোমুখি! প্যালেস্টাইনি বন্দিদের ‘বাগে আনতে’ বড় পরিকল্পনা ইজরায়েলের
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। একদিকে সিজেপি তাদের কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে সোমবারের আগে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার দিকে নজর রয়েছে সকলের। সংসদ অভিযানের ডাককে ঘিরে তৈরি হওয়া এই টানাপোড়েন এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে (Cockroach Janata Party)।













