বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড় উদ্যোগ নিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অভিজ্ঞতা আরও স্বচ্ছন্দ করার পাশাপাশি অ্যাপ-ভিত্তিক চালকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সেই লক্ষ্যেই সরকারি পরিবহণ অ্যাপ ‘যাত্রী সাথী’-কে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।
যাত্রী সাথী অ্যাপ নিয়ে বড় পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
নতুন এই উদ্যোগে সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ‘সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড’। সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই পোস্ট থেকে জানা গেছে, রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দফতর এবং ভারত ট্যাক্সির মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ‘যাত্রী সাথী’ শুধু একটি ক্যাব বুকিং অ্যাপ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ডিজিটাল পরিবহণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হল এক ছাতার তলায় বিভিন্ন ধরনের পরিবহণ পরিষেবা নিয়ে আসা। এতদিন সরকারি এই অ্যাপের মাধ্যমে মূলত ট্যাক্সি বা ক্যাব বুক করা যেত। নতুন পরিকল্পনায় একই অ্যাপ ব্যবহার করে বাইক ট্যাক্সি এবং অটো-রিকশাও বুক করা যাবে। প্রথমে শহরাঞ্চলে এবং পরে ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এই উদ্যোগের অন্যতম বড় দিক হল চালকদের কল্যাণে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব। ‘যাত্রী সাথী’-র সঙ্গে যুক্ত ড্রাইভারদের সমবায়ের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে যাত্রীরা কম সময়ে নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন এবং চালকেরাও সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন : আজ থেকে বাদল অধিবেশন, ‘বন্দেমাতরম’ বিল-সহ একাধিক বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র
উল্লেখ্য, সরকারি উদ্যোগে চালু হওয়া ‘যাত্রী সাথী’ অ্যাপ ইতিমধ্যেই বহু মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এবার ভারত ট্যাক্সির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ, নতুন প্রযুক্তির সংযোজন এবং অটো ও বাইক পরিষেবা যুক্ত হওয়ার ফলে অ্যাপটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়তে পারে। এই উদ্যোগ শুধু একটি অ্যাপের পরিষেবা সম্প্রসারণ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনমুখী করে তোলার বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।













