বাংলা হান্ট ডেস্কঃ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। অ্যাম্বুলেন্স বুকিংয়ের ক্ষেত্রে আর দালালদের খপ্পরে পড়তে হবে না। কারণ নতুন অ্যাম্বুলেন্স অ্যাপ (Ambulance App) আনতে চলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এই অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল দিয়ে ক্যাবের মতো অ্যাম্বুলেন্স বুক করা যাবে। সেই সঙ্গেই মিলবে আরও একগুচ্ছ সুবিধা।
অ্যাম্বুলেন্স অ্যাপ আনছে রাজ্য | (Ambulance App)
সম্প্রতি এই বিষয়ে বিশদে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ওলা, উবেরের ধাঁচে এই অ্যাম্বুলেন্স অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এই অ্যাপ খুললে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর আশেপাশে কতগুলি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে তা দেখা যাবে। চিকিৎসা পরিষেবার ধরণের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ এক বাসে চেপে হুগলি থেকে দিঘা! নতুন বাসের রুট, কোথা থেকে ছাড়বে জানুন
তিনটি ভাগ কী কী? সেটাও জানানো হয়েছে। প্রথম, নরমাল তথা সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স। দ্বিতীয়, মিডিয়াম তথা মাঝারি সুবিধা বিশিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স ও তৃতীয়, আইসিইউ যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স। ব্যবহারকারী প্রয়োজন অনুসারে একটি ধরণ বেছে নিতে পারেন। এরপর গন্তব্য দেওয়ার পর স্ক্রিনে ভাড়া ভেসে উঠবে। অর্থাৎ এই অ্যাপে চালকদের মর্জি মতো ভাড়া চাওয়ার ব্যাপার থাকবে না।
অ্যাম্বুলেন্স অ্যাপের সুবিধা
অ্যাম্বুলেন্স বুকিং ছাড়াও এই অ্যাপ চালু হলে আরও একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে যানবাহনের ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, পলিউশন ছাড়পত্র খতিয়ে দেখা হবে। সেই সঙ্গেই অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরের পরিকাঠামো কেমন সেটাও পরীক্ষা করা হবে। কোনও অ্যাম্বুলেন্সে যদি স্ট্রেচারের অবস্থা, প্যারামেডিক কর্মী, অক্সিজেন সিলিন্ডার ঠিকঠাক না থাকে তাহলে সেই গাড়িতে অ্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

এছাড়া এই অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে রোগীর সরাসরি যোগাযোগ থাকবে। ফলে কোনও দালালচক্রের ব্যাপার নেই। জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে রাজ্য। একইসঙ্গে একজন রোগী কতবার, কোন হাসপাতালে যাতায়াত করছেন সেই বিষয়ক ডেটাও এই অত্যাধুনিক অ্যাপের মাধ্যমে রেকর্ড করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে আরও তাড়াতাড়ি হাসপাতাল ও রুটের খোঁজ সম্ভব হয়।
রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের উন্নয়নে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। নতুন অ্যাম্বুলেন্স অ্যাপ সেই পদক্ষেপেরই এক অংশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাজেট পেশের পর এই অত্যাধুনিক অ্যাপ নির্ভর ব্যবস্থার প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করতে ও সম্পূর্ণ চিন্তাভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে প্রায় ছয় মাস মতো লাগবে।













