বাংলা হান্ট ডেস্ক : সরকারি খাতায় তাঁর নামে আবাস যোজনার ঘর অনুমোদিত। বরাদ্দ হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকাও। অথচ বাস্তবে সেই উপভোক্তার দাবি, তাঁর হাতে পৌঁছয়নি একটি টাকাও। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে এই ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ (Awas Yojana Scam) । কে পেল ওই ঘরের টাকা? সেই প্রশ্নেই এখন সরগরম স্থানীয় এলাকা।
এবার আবাস যোজনায় দুর্নীতি (Awas Yojana Scam)
ঘটনাটি মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮১ নম্বর ধূলিয়া উছলপুকুরি এলাকার। সম্প্রতি আবাস যোজনার উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য পঞ্চায়েতের কর্মীরা এলাকায় সমীক্ষা চালাতে গিয়ে ক্ষিতীশবাবুর বাড়িতে পৌঁছন। প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করার পর তাঁরা জানান, সরকারি তথ্যভাণ্ডারে তাঁর নামে ইতিমধ্যেই একটি আবাস যোজনার ঘর অনুমোদিত হয়েছে এবং তার জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দও দেখানো রয়েছে।
শুনেই বিস্মিত হয়ে যান ক্ষিতীশবাবু। তাঁর দাবি, আজ পর্যন্ত আবাস যোজনার কোনও অর্থ তিনি পাননি। এমনকি তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও এই প্রকল্পের কোনও টাকা জমা হয়নি। সরকারি নথিতে নিজের নাম দেখে তিনি কার্যত হতবাক। ক্ষিতীশবাবুর কথায়, “আমি ঘর পাওয়ার যোগ্য, কিন্তু আমার নামে বরাদ্দ হওয়া ঘরটি কে বা কারা তুলে নিল, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
তাঁর অভিযোগ, আগের শাসন আমলে আবাস যোজনার প্রথম তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। অথচ এখন সরকারি রেকর্ডে তাঁর নামে ঘর বরাদ্দ দেখানো হলেও সেই সুবিধা বাস্তবে অন্য কেউ ভোগ করেছে বলে তাঁর সন্দেহ। গোটা ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ বর্মনের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাকে বঞ্চিত করে অন্যত্র সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপি নেতার কথায়, “ক্ষিতীশবাবু আগে বিজেপি করতেন। তৃণমূল তাঁকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলে নিয়েছিল। এখন তাঁরই ঘর তৃণমূল নেতারা দখল করে নিয়েছেন।” তাঁর আরও অভিযোগ, এই অনিয়মে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপপ্রধানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা বানী বর্মন জানান, বিষয়টি আগে তাঁর জানা ছিল না। অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : দেশের যে কোনও জায়গা থেকে তুলতে পারবেন রেশন! মেরা রেশন অ্যাপের বাকি সুবিধাগুলি জানুন
আবাস যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তার পরিবর্তে অন্য কারও নামে সুবিধা চলে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা। অভিযোগের সত্যতা কতটা, বরাদ্দের অর্থ কোথায় গেল এবং প্রকৃত দায় কার— সেই উত্তর মিলবে প্রশাসনিক তদন্তেই। এখন সেই তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ক্ষিতীশবাবু-সহ গোটা এলাকার মানুষ।













