বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র (Dearness Allowance) ১০০ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গেই রাজ্যকে এই নিয়ে স্টেটাস রিপোর্টও জমা করতে বলা হয়েছিল। বুধবার সেই রিপোর্ট জমা দিয়ে রাজ্য জানিয়েছে, মোট চার কিস্তিতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) ৮৫ শতাংশ মেটাতে চায় তাঁরা। বাকি ১৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ছাড় চাওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে রাজ্যের উপর থাকা বিপুল আর্থিক বোঝার কথা জানানো হয়েছে।
১০০ নয়, বকেয়া ডিএ-র ৮৫% দিতে চায় রাজ্য | (Dearness Allowance)
সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া স্টেটাস রিপোর্টে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল অবধি রাজ্য সরকারি কর্মচারী বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা দিতে হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে চার কিস্তিতে সেই টাকা মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৫ ঘূর্ণাবর্তের দাপটে দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে বৃষ্টি! আর কতদিন চলবে দুর্যোগঃ আবহাওয়ার খবর
রাজ্যের দাবি, জুলাইয়ে দেওয়া প্রথম কিস্তিতেই সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র ৭ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকাও তিনটি কিস্তিতে দিয়ে দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় কিস্তি, জুলাই মাসে তৃতীয় কিস্তি ও ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে চতুর্থ কিস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শীর্ষ আদালতে রাজ্যের দাবি, প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার সরকারি কর্মচারী বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাবেন। ২০০৮-২০১৫ ও ২০১৬-২০১৯, এই দুই ভাগে ভাগ করে বকেয়া ডিএ মেটানো হচ্ছে। তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বেশ জটিল। সেই কারণে অনেকটা সময় লাগছে।
রাজ্য জানিয়েছে, ১ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মচারী বকেয়া ডিএ পাবেন। সেই জন্য ই-সার্ভিস বুক করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গেই প্রত্যেকের ১৪১ মাসের বকেয়ার অঙ্ক হিসাব করতে হচ্ছে। সংগ্রহ করতে হচ্ছে ৯০টি ট্রেজারির তথ্য। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দফতরের বেতন কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় আলাদা করে গণনা করতে হচ্ছে।
রাজ্যের আরও দাবি, ২০১৬ সালের আগে অবধি সরকারি কর্মচারীদের বেতনের তথ্য কম্পিউটারে নথিভুক্ত করা নেই। সেগুলি খাতায় লেখা রয়েছে। সেগুলি ডিজিটাল মাধ্যমে তুলে হিসাব করতে হচ্ছে। এসবের জন্যও বকেয়া ডিএ মেটাতে অনেকটা সময় লেগে যাচ্ছে।

এই তথ্য উল্লেখের পাশাপাশি বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে ১৫% ছাড়ও চেয়েছে রাজ্য। কারণ হিসেবে বিপুল পরিমাণ আর্থিক বোঝা ও সরকারের প্রচুর খরচের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে বকেয়া ডিএ মামলায় সরকারি কর্মচারীদের একাংশের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, রাজ্য নিজের মতো আবেদন জানাতে পারে। তবে তাঁরা চান, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার পুরোটাই দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হোক। আদালতের কাছে সেই অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
এদিকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ মামলা ওঠার কথা ছিল। জানা যায়, আজ দুপুর ২টো নাগাদ বিচারপতি সঞ্জয় ক্যারল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে। তবে গতকাল রাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, বিশেষ বেঞ্চ বাতিল। ফলে আজ এই মামলার শুনানি হচ্ছে না।













