বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ গতকাল অত্যন্ত কষ্ট করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল ইস্টবেঙ্গল। এদিন জামশেদপুর এফসির (Jamshedpur FC) বিরুদ্ধে নাটকীয় টাইব্রেকার জিতে ডুরান্ডের (Durand Cup 2026) কোয়ার্টার ফাইনালের বাঁধা টপকালো মোহনবাগান (Mohun Bagan)। ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় সবুজ-মেরুণ শিবির। শেষপর্যন্ত টাইব্রেকারে একাধিক নাটকীয় মুহূর্ত টপকে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের (Vishal Kaith) সেভে ভর করে সেমির টিকিট পেলো পানাগিওটিস ডিলেমপেরিসের ছেলেরা।
এদিন ম্যাচের মাত্র দুই মিনিট নাগাদ সাহালের গোলে ভর করে লিড নিয়েছিল সবুজ মেরুণ শিবির। বল পায়ে এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ ছন্দে রয়েছেন এই তারকা ভারতীয় মিডফিল্ডার। এই নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতায় এখনও অবধি মোট পাঁচটি গোল করে ফেললেন তিনি। এদিন জামশেদপুরের কাছ থেকে পাওয়া লুজ বল ধরে সাহালের উদ্দেশ্যে বল রাখেন নবাগত বিদেশি ডেজান ড্রাজিচ। গোল করতে ভুল করেননি সাহাল।
কিন্তু এরপর আচমকাই ছন্দপতন। ধীরে ধীরে ম্যাচের ওপর নিজেদের দখল বাড়াতে শুরু করে জামশেদপুর। চাপে পড়ে যায় সবুজ-মেরুণ শিবির। আর ঠিক সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুরগাঁওকরের গোলে সমতায় ফেরে চলতি আইএসএল থেকে নাম তুলে নেওয়া দলটি। এরপর বাকি ম্যাচে লিড নেওয়ার কয়েকটি সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় মোহনবাগান। ফলস্বরূপ ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে মোহনবাগানের হয়ে টানা ৯ টি শটে গোল করেন দলের নির্ভরযোগ্য ফুটবলাররা। স্নায়ুর চাপ সামলে দলকে হতাশ করেননি জেলকোভিচ, শুভাশীষ, ম্যাকলারেন, কিয়ান, অনিরুদ্ধ, আলবার্তো ও সুহেল। উল্টোদিকে টানা ৮টি শট থেকে গোল তুলে নেয় জামশেদপুরও। কিন্তু এরপর আসে ম্যাচের আসল মুহূর্ত।
মামার শট দুর্দান্ত দক্ষতা ও অনুমানক্ষমতার ওপর ভর করে বাঁচিয়ে দেন মোহনবাগানের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। ডার্বিতে নায়ক হওয়ার পর এই ম্যাচেও দলের প্রয়োজনের সময় জ্বলে ওঠেন তিনি। এরপর গোল করে মোহনবাগানকে জয় এনে দিতে ভুল করেননি অভিমিতেই। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে অস্তিত্ব সংকটে ভোগা একটি দলের বিরুদ্ধে ধারে ভারে অনেক এগিয়ে থাকা মোহনবাগানের এই অবস্থা হবে কেন। এরপরের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে শক্তিশালী নর্থইস্টের ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই ম্যাচের আগে দলের গোল না পাওয়ার এই বিষয়টি চিন্তায় রাখবে দলের কোচ ও ভক্তদের।













