বাংলা হান্ট ডেস্ক: নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের (NEET Paper Leak) ঘটনায় বিগত একমাস ধরে উত্তাল দেশ। দিল্লি-মুম্বাই ছাড়াও এই আন্দোলনের আঁচ এসে পড়ে কলকাতাতেও। শনিবার নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মসূচি উপলক্ষে পদ্ম পুকুরের একটি জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ, বিধায়ক বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় সহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ (Education Minister Resign) প্রসঙ্গে বড় মন্তব্য করলেন কুণাল।
প্রসঙ্গত শিক্ষায় দুর্নীতি তথা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবী ছিল একটাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দিল্লীর যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র ছাত্রীদের পাশে আগেই দাঁড়িয়েছিল সিজেপি অর্থ্যাৎ ককরোচ জনতা পার্টি। আর সম্প্রতি এই আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে সোমবারই দিল্লী যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যদিও তৃণমূল নেত্রীর আর দিল্লী যাওয়ার দরকার পড়ল না। তার আগেই আজ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাই কুণাল ঘোষের দাবী, ‘বাংলার বাঘিনী’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়েই নাকি শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
আরও পড়ুনঃ নব তৃণমূলে যেতেই উলটপুরাণ! বিধানসভায় অগ্নিমিত্রা পালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফিরহাদ হাকিম
কুণাল ঘোষের কথায়, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবী করা হয়েছিল। কাল পর্যন্ত পদত্যাগ করার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু কাল একটি ইনফরমেশন পাওয়া যায়। দিদি দিল্লী যাচ্ছেন। কাল পর্যন্ত নো রেজিগনেশন, আর যখন জনা গেল দিদি আসছে, আগেই পদত্যাগ করে দিল। এতবার ধর্ম-ধর্ম করে, ধর্মের জন্য এত রাজনীতি করে শেষ পর্যন্ত পুরো ধর্মেন্দ্র জিই ডুবে গেল। আজ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর আসছে। তাহলে কাল পর্যন্ত কেন ছিল না? বাংলার বাঘিনী আসছে না! দিদি তুমি এগিয়ে যাও বাংলা তোমার সাথে আছে। খেলা হবে।’
প্রসঙ্গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলনের খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সংবাদ প্রতিনিধি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই আজ কুণাল ঘোষ বললেন, ‘আমাদের কর্মসূচি দেশের স্বার্থে, আমাদের কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের স্বার্থে, আমাদের কর্মসূচি বিজেপির বিরুদ্ধে । কিন্তু সেখানে কভার করতে প্রেস আসবে।’
এরপরেই গতকালের মিছিল থেকে যেভাবে মিডিয়ার ছেলে-মেয়েদের ওপরে, চিত্র সাংবাদিকদের ওপরে আক্রমণ হয়েছে তার চরম নিন্দা করে কুণাল এদিন তৃনমূল ছাত্র পরিষদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘মিডিয়াকে কেউ বিরক্ত করবেন না। যদি বাইরে থেকে কোন বহিরাগত এসে মিডিয়ার ওপরে আক্রমণ করে তাহলে দাঁড়িয়ে থেকে আপনারা মিডিয়াকে প্রটেকশন দেবেন।’ একইসাথে তাঁর সংযোজন, ‘যে মিডিয়া হোক, যে চ্যানেল হোক কোনোভাবে কাওকে বিরক্ত করা যাবে না। আপনারা জেনে রাখুন, কোন মিডিয়ার কি পলিসি এটা মিডিয়ার বসেরা ঠিক করেন।’
















