বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভারতের ইলিশ! আচমকাই আমদানি বন্ধ করল তারেক রহমান সরকার

Published on:

Published on:

Bangladesh government suddenly stops importing Hilsa fish from India
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আচমকাই ভারত (India) থেকে ইলিশ (Hilsa Fish) আমদানি বন্ধ করে দিল বাংলাদেশ (Bangladesh)। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মৎস্য অধিদফতর ভারত থেকে ইলিশ আমদানির জন্য দেওয়া ১০৩টি ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা NOC বাতিল করে দেয়। এর পর থেকেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ইলিশের আমদানি কার্যত বন্ধ। কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে মৎস্য অধিদফতরের তরফে এখনও নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি। তবে আচমকা অনুমতি বাতিলের জেরে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা। তাঁদের দাবি, আমদানির জন্য ইতিমধ্যেই ভারতে ইলিশ কিনে মজুত করা হয়েছিল। এখন সেই মাছ কম দামে ফেরত দিতে হলে একদিকে যেমন লোকসান হবে, তেমনই আমদানি প্রক্রিয়ায় হওয়া খরচও আর উঠে আসবে না।

আচমকাই ভারত থেকে ইলিশ মাছ (Hilsa Fish) আমদানি বন্ধ করল তারেক রহমান সরকার:

চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে মোট ১,৭৩৯.৫০ টন ইলিশ (Hilsa Fish) আমদানির অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশের মৎস্য দফতর। কিন্তু সেই অনুমোদনের পুরোটা কাজে লাগার আগেই ১০৩টি NOC বাতিল করা হল। বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৫৩৫-৫৫৩ টন ইলিশ ঢুকেছিল। অর্থাৎ অনুমোদিত পরিমাণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানি হওয়ার পরেই আচমকা থেমে গেল রূপোলি শস্যের এই বাণিজ্য। এখন অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ফের ইলিশ আমদানি করা যাবে কি না, সেই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে তুরস্ক! ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও রাষ্ট্রসংঘে ফের ‘ভুল’ করলেন এর্দোগান

তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত, তার সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ নিয়ে বাংলাদেশে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মহলের যে বক্তব্য উঠে এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম হল ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রির অভিযোগ। অভিযোগ, তুলনামূলক কম দামে ভারত থেকে আসা ইলিশ বাংলাদেশি বাজারে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। কিছু ক্ষেত্রে প্রতি কেজি প্রায় ৫০০ টাকায় আমদানি করা মাছ ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত দামে ‘পদ্মার ইলিশ’ বলে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি আমদানির সময় মাছের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। তবে এগুলি সরকারি ভাবে ঘোষিত কারণ নয়, সংশ্লিষ্ট মহলের অনুমান মাত্র।

আরও একটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে—দেশীয় ইলিশ উৎপাদন ও মাছ ধরার ক্ষেত্রে এর প্রভাব। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের আশঙ্কা, ভারত থেকে নিয়মিত বড় পরিমাণে ইলিশ ঢুকলে স্থানীয় জেলেদের মাছ ধরার উৎসাহ কমতে পারে। সেই কারণে দেশীয় ইলিশের বাজার ও উৎপাদনকে গুরুত্ব দিতে আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও মৎস্য দফতর এখনও এমন কোনও কারণ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি। ফলে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধের নেপথ্যে ঠিক কোন বিষয়টি কাজ করেছে, তা নিয়ে জল্পনাই চলছে।

Bangladesh government suddenly stops importing Hilsa fish from India

আরও পড়ুন: ৩ দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের আগে রবিবার খোলা রাখতে হবে ব্যাঙ্ক! বিবৃতি জারি করে কী জানাল কেন্দ্র?

এদিকে, ভারত থেকে বাংলাদেশে যাওয়া ইলিশের (Hilsa Fish) একটি বড় অংশ গুজরাটের উপকূলীয় এলাকা থেকে আসছিল বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। এই মাছের মধ্যে ডিম বা ‘রো’ থাকার কারণে বাংলাদেশের কিছু বাজারে বিশেষ চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো এলাকায় ডিমভরা ইলিশ ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় বলে জানা যাচ্ছে। গত দুই মাসে বেনাপোল দিয়ে কয়েকশো টন ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে ঢুকেছে। ফলে বাণিজ্য হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন আমদানিকারকদের হাতে মজুত মাছ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ভারতীয় ইলিশের পরবর্তী চালান নিয়েও আপাতত ধোঁয়াশা। এখন বাংলাদেশের মৎস্য দফতরের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে ব্যবসায়ী মহল।