কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে তুরস্ক! ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও রাষ্ট্রসংঘে ফের ‘ভুল’ করলেন এর্দোগান

Published on:

Published on:

Turkish President Recep Tayyip Erdogan has once again raised voice in support of Pakistan on the Kashmir issue.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) সাধারণ পরিষদের মঞ্চে ফের কাশ্মীর (Kashmir) প্রসঙ্গ তুললেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়িপ এর্দোগান (Recep Tayyip Erdogan)। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত বিরোধের পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুও রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই মন্তব্যের সময় রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। ফলে এর্দোগানের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে ভারত-তুরস্ক কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে। কারণ কাশ্মীর নিয়ে তৃতীয় পক্ষের মন্তব্যের বিরোধিতা করে নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে এসেছে।

কাশ্মীর ইস্যুতে ফের পাকিস্তানের হয়ে সুর চড়ালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়িপ এর্দোগান (Recep Tayyip Erdogan):

কাশ্মীর নিয়ে এর্দোগানের (Recep Tayyip Erdogan) এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালেও জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ভারত। সেই সময় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছিল, তুরস্কের ‘ক্রমাগত হস্তক্ষেপ’ নয়াদিল্লি মেনে নেবে না এবং এর প্রভাব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও পড়তে পারে। অর্থাৎ, কাশ্মীর প্রসঙ্গে আঙ্কারা এবং নয়াদিল্লির অবস্থানের ফারাক বহুদিনের।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আন্দোলন দমনে নিপীড়ন! ভারতের তুলনা টেনে পড়শি দেশকে শিক্ষা দিলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের শীর্ষকর্তা

এবারের বক্তব্যে অবশ্য শুধু কাশ্মীরেই থেমে থাকেননি এর্দোগান। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে গাজা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন তিনি। প্যালেস্টাইনকে আরও বেশি দেশের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান এবং গাজায় আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর কথা বলেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকা বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে না। রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের দাবিটি অবশ্য তুরস্কের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানেরই অংশ।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানও দীর্ঘদিন ধরে একই রয়েছে। নয়াদিল্লি বলে এসেছে, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে যে কোনও বিষয় ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক পরিসরেই আলোচনা হওয়া উচিত এবং তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের নথি অনুযায়ী, ভারত ও তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক ১৯৪৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগও রয়েছে। ফলে একদিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে আঙ্কারার অবস্থান—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্যই এখন ভারত-তুরস্ক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

What did the Turkish President Recep Tayyip Erdogan say at the UN regarding the Kashmir issue?

আরও পড়ুন: ৩ দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের আগে রবিবার খোলা রাখতে হবে ব্যাঙ্ক! বিবৃতি জারি করে কী জানাল কেন্দ্র?

এর্দোগানের (Recep Tayyip Erdogan) সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই ফের একবার সেই পুরনো কূটনৈতিক বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। ২০২০ সালে নয়াদিল্লির প্রকাশ্য আপত্তির পরও তুরস্ক কাশ্মীর প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান বদলায়নি। বরং রাষ্ট্রসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে এর্দোগান আবারও আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের কথা বলেছেন। অন্যদিকে ভারত নিজের অবস্থানে অনড়—কাশ্মীরকে নিয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ নয়, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। ফলে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে এর্দোগানের বক্তব্যকে ঘিরে ভারত ও তুরস্কের কূটনৈতিক অবস্থানের এই ফারাকই আপাতত নজরে থাকছে।