জ্বালানির জন্য ভরসা ভারত! বিপুল পরিমাণ ডিজেল কিনল পাকিস্তানের বন্ধু তুরস্ক, চমকে দেবে পরিমাণ

Published on:

Published on:

Turkey purchased a massive amount of diesel from India.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তুরস্কের (Turkey)। কিন্তু জ্বালানির বাজারে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে অন্য এক সমীকরণ। রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ কমতেই ভারতের (India) দিকে বড়সড় ভাবে ঝুঁকেছে আঙ্কারা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগস্টে ভারত থেকে তুরস্কের ডিজেল আমদানি দৈনিক ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেলেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে আমেরিকা থেকে তুরস্কে ডিজেল গিয়েছে দৈনিক প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল। পণ্যবাণিজ্যের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলারের ২০১৭ সাল থেকে থাকা মাসিক তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ থেকেই এই আমদানির পরিমাণ রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। তবে অন্য একটি তথ্য সংস্থা Energy Aspects-এর হিসাব তুলনামূলক কম—তাদের মতে অগস্টে ভারত থেকে তুরস্কে ডিজেল গিয়েছে দৈনিক প্রায় ৭৪ হাজার ব্যারেল। অর্থাৎ তথ্যের উৎসভেদে পরিমাণে ফারাক থাকলেও ভারতের সরবরাহ যে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে, তা নিয়ে সংশয় নেই।

ভারতের থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কিনল পাকিস্তানের বন্ধু তুরস্ক (Turkey)

এতদিন তুরস্কের (Turkey) ডিজেল আমদানির অন্যতম প্রধান উৎস ছিল রাশিয়া। ২০২৫ সালে তুরস্কের মোট ডিজেল আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশই রাশিয়া থেকে এসেছিল বলে দেশটির জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রয়টার্স। সেই বছর রাশিয়া থেকে তুরস্কের দৈনিক ডিজেল আমদানি ছিল প্রায় ২ লক্ষ ৮১ হাজার ব্যারেল। কিন্তু ২০২৬ সালে ছবিটা দ্রুত বদলেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বছরের গোড়ায় রাশিয়া থেকে তুরস্কের আমদানি দৈনিক ২ লক্ষ ব্যারেলের উপর থাকলেও জুলাইয়ে তা নেমে আসে প্রায় ১ লক্ষ ব্যারেলে। অগস্টে আরও কমে দাঁড়ায় প্রায় ৮০ হাজার ব্যারেলে। ফলে তুরস্কের মোট ডিজেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশও নেমে এসেছে মাত্র ২০ শতাংশে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভারতের ইলিশ! আচমকাই আমদানি বন্ধ করল তারেক রহমান সরকার

এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে রাশিয়ার নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সামলাতে মস্কো ডিজেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শোধনাগরে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে ওই অঞ্চল থেকেও জ্বালানি সরবরাহ কমেছে। ফলে রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে শুরু করে তুরস্ক। বাজার বিশ্লেষকদের বক্তব্য, রাশিয়ার সরবরাহে ধাক্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে তুরস্ককে অ-রুশ উৎস থেকে দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে ভারত-তুরস্ক সম্পর্কের রাজনৈতিক দিকটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠতা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আরও বেড়েছে। অগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, চুক্তিতে কোনও এক সদস্যের উপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কাশ্মীর প্রশ্নেও প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়িপ এর্দোগানের অবস্থান নয়াদিল্লির সঙ্গে এক নয়। সেপ্টেম্বরের রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তিনি কাশ্মীর-সহ দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যাগুলি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভারত বরাবরই কাশ্মীরকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখার কথা জানিয়ে এসেছে।

Turkey purchased a massive amount of diesel from India.

 

আরও পড়ুন: কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে তুরস্ক! ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও রাষ্ট্রসংঘে ফের ‘ভুল’ করলেন এর্দোগান

তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি প্রয়োজন ও বাজারের হিসাবও যে বড় ভূমিকা নেয়, তুরস্কের (Turkey) সাম্প্রতিক ডিজেল আমদানির পরিসংখ্যানেই তার ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে রাশিয়ার সরবরাহ কমেছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারও যুদ্ধের কারণে চাপে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় শোধনাগারগুলি তুরস্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। অগস্টে ভারতের কাছ থেকে তুরস্কের রেকর্ড ডিজেল আমদানির তথ্য তাই শুধু দুই দেশের জ্বালানি বাণিজ্যের পরিবর্তনই দেখাচ্ছে না, যুদ্ধ ও রফতানি নিষেধাজ্ঞার মতো ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাগুলি কী ভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের সমীকরণ বদলে দিতে পারে, তারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।