অন্নপূর্ণা যোজনা ৩ হাজার টাকা পাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, কাদের জন্য?

Published on:

Published on:

Annapurna Yojana CM Suvendu Adhikari Big Message for Fishermen Families
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় একাধিক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়া ‘জয় মা কালী’ ট্রলারের ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। মৃতদের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়ার পাশাপাশি চাকরি ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাছাড়া অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি।

অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

দুর্ঘটনার পর পূর্ব মেদিনীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনায় যেসব পরিবারে অকালে বিধবা হয়েছেন, তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। তিনি জানান, বিডিও-কে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক পরিবার ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) সুবিধা পেয়েছেন, তবে কয়েকজন এখনও বঞ্চিত রয়েছেন। তাঁদেরও যাতে দ্রুত প্রকল্পের আওতায় আনা হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের বিধবা পেনশনের পরিমাণ দেড় হাজার টাকা। অন্যদিকে অন্নপূর্ণা যোজনায় (Annapurna Yojana) ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তাই যাঁরা যোগ্য, তাঁরা যাতে পুরো ৩ হাজার টাকার সুবিধা পান, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুবিধার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মিশন বাৎসল্য’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রতি মাসে ৪ হাজার টাকা করে স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এলাকার বিধায়ক এই বিষয়গুলি দেখবেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে শঙ্করপুর থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ‘জয় মা কালী’ ট্রলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। ওই ট্রলারে মোট ১৫ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। ২ জুলাই তাঁরা সমুদ্রে রওনা দেন। এরপর ৫ জুলাই ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর ১৩ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ উপকূল থেকে ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়।

ট্রলারের সঙ্গে ১৪ জন মৎস্যজীবীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এদের মধ্যে ১৩ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখনও ২ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। মৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এছাড়া ওড়িশার ৩ জন, নদিয়ার ২ জন এবং হাওড়ার ১ জন মৎস্যজীবী ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ গভীর সমুদ্রে ট্রলার ডুবি, মৃত-নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সাহায্য! চাকরির বড় ঘোষণা

রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরে গিয়ে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। গভীর সমুদ্রে রোজগারের আশায় যাওয়া মানুষগুলির এমন পরিণতির পর তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার (Annapurna Yojana)।