লোকসভায় বিরোধীদের ওয়াক আউট, ধ্বনিভোটে পাশ প্রশ্নফাঁস বিরোধী সংশোধনী বিল

Published on:

Published on:

New Bill in Lok Sabha‌ Right to Disconnect Introduced
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক ও বিক্ষোভের মধ্যেই বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আরও কড়া শাস্তির বিধান আনতে লোকসভায় পাশ হল প্রশ্নফাঁস বিরোধী সংশোধনী বিল (Anti-paper leak bill)। নতুন আইনে জেল ও জরিমানার পরিমাণ অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করার জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

লোকসভায় পাশ হল প্রশ্নফাঁস বিরোধী সংশোধনী বিল (Anti-paper leak bill)

মঙ্গলবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছে পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ (Anti-paper leak bill)। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিলে অনুমোদন দিয়েছিল। তারপর সংসদে তা পেশ করা হয়। গত বছর NEET প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন শুরু হয়। দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কঠোর আইন আনার দাবি জোরালো হয়। এরপর কেন্দ্র জানায়, ২০২৪ সালের আইনে সংশোধন এনে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হবে।

তবে বিল (Anti-paper leak bill) নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী সাংসদরা লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা প্রয়োজন হলেও বারবার এমন ঘটনা কেন ঘটছে, তা নিয়েও আলোচনা হওয়া উচিত। পাশাপাশি আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা।

নতুন বিলে প্রশ্নফাঁসের অপরাধে জরিমানার অঙ্ক অনেক বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে এই অপরাধে ৩ থেকে ৫ বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। সংশোধিত আইনে জরিমানা বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া কোনও ব্যক্তি বা চক্র পরিকল্পনা করে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সেই সঙ্গে ন্যূনতম ১ কোটি টাকা জরিমানারও বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি প্রশ্নফাঁসের তথ্য জেনেও কর্তৃপক্ষকে না জানালে সেই ক্ষেত্রেও ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

শুধু শাস্তিই নয়, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার তদন্ত ২ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। তার পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, গোটা মামলার নিষ্পত্তি ৫ মাসের মধ্যেই করার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট ধরে ধরে নোটিস, নাম-ঠিকানাও চাইছে পুলিশ, কেন?

এদিকে NEET প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত শুনানির জন্য কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের আশা, এর ফলে এই ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কড়া বার্তা যাবে (Anti-paper leak bill)।