‘৬০ বছর ধরে আছি’ যুক্তি মানল না হাইকোর্ট, রেলের উচ্ছেদে সবুজ সংকেত

Published on:

Published on:

Calcutta High Court gives green signal to railway eviction
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে কোনও সরকারি জমি ব্যবহার করলেই তার উপর মালিকানা বা স্থায়ী অধিকার তৈরি হয় না— এই বার্তাই ফের স্পষ্ট করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। হাওড়ার একটি ক্লাবের করা মামলায় আদালত জানিয়ে দিয়েছে, রেলের জমিতে বছরের পর বছর কার্যকলাপ চালানো হলেও তা বৈধ দখলের প্রমাণ হতে পারে না। ফলে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত।

জমির মালিকানা নিয়ে রায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)

প্রসঙ্গত, হাওড়ার ‘ছোট্ট দল’ নামে একটি ক্লাব দাবি করে যে তারা ষাটের দশক থেকেই সংশ্লিষ্ট জমিতে ক্লাব পরিচালিত হয়ে এসেছে। সেই দীর্ঘ সময়ের দখলদারির ভিত্তিতে তারা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিল। ক্লাবের আরও অভিযোগ ছিল, জাতীয় পরিবেশ আদালত (এনজিটি) প্রত্যেক দখলদারকে পৃথকভাবে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে সেই সুযোগ তারা পায়নি। তাদের দাবি, নোটিস ছাড়াই উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে রেল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি আদালতের সামনে তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য, এনজিটির নির্দেশ কার্যকর করতে ২০১৮ সালেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে নোটিস জারি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ক্লাব নোটিস গ্রহণে অস্বীকার করলে, প্রচলিত বিধি অনুসারে সেটি ক্লাবের দেওয়ালে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। পরে নির্ধারিত শুনানিতে অন্য দখলদাররা উপস্থিত থাকলেও ক্লাবের কোনও প্রতিনিধি হাজির হননি।

এরপরেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওই জমিকে অবৈধ দখলমুক্ত করার নির্দেশ জারি করা হয়। ২০২২ সালে এনজিটি জলাশয় সংলগ্ন রেলের জমি দ্রুত খালি করার নির্দেশ দিলে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। মামলার নথি খতিয়ে দেখে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, আবেদনকারীরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে জমিটি রেলের। অথচ সেখানে থাকার বৈধ অনুমতি বা লিজ সংক্রান্ত কোনও নথি আদালতে দেখাতে পারেননি।

Calcutta High Court gives green signal to railway eviction

আরও পড়ুন : ছোটাছুটি অতীত! এবার বাড়ি বসেই করুন আয়ুষ্মান কার্ডের e-KYC, সহজ পদ্ধতি জানুন

আদালতের মতে, নোটিস জারির ক্ষেত্রেও রেল নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০১৮ সালের উচ্ছেদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এতদিন কোনও আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। ফলে সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রেও আইনি বাধা নেই। এই রায়ের মাধ্যমে কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট করে দিল, দীর্ঘদিন দখলে থাকাই কোনও সরকারি জমির উপর আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে পারে না। ফলে রেলের জমি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পথ আরও সুগম হল।