বাংলা হান্ট ডেস্ক: মাত্র ৩,০০০ টাকার মাসিক বেতন দিয়ে কর্মজীবন শুরু। তারপর নাসিকের একটি কিন্ডারগার্টেনের ছোট্ট ঘরে ৭ বন্ধুকে নিয়ে শুরু ব্যবসা। আজ সেই উদ্যোগই পরিণত হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার সফল (Success Story) প্রযুক্তি সংস্থায়। এটি পীযূষ সোমানির (Piyush Somani) উত্থানের গল্প। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ESDS Software Solution বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সেন্টার এবং AI পরিকাঠামোর মতো প্রযুক্তিক্ষেত্রে কাজ করছে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সংস্থাটির বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। BSE-র তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির মার্কেট ক্যাপ প্রায় ১৯,০৬৪ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের এক তরুণের ছোট পরিসরে শুরু করা উদ্যোগ আজ দেশের প্রযুক্তি ব্যবসার আলোচনায় উঠে এসেছে।
পীযূষ সোমানির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
তবে এই জায়গায় পৌঁছনোর পথটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। ১৯৯৭ সালে পুণে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পীযূষ। আসন না পাওয়ায় তাঁকে ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে হয়। বিষয়টি তাঁর পছন্দ না হওয়ায় প্রথম বর্ষে পরীক্ষায় ব্যর্থও হন। এরপর বাবার পরামর্শে মাত্র ১৫ দিনের একটি কম্পিউটার কোর্স করেন তিনি। সেই ছোট্ট কোর্সই তাঁর প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ অনেকটাই বদলে দেয়। ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে মুম্বইয়ে চাকরিতে যোগ দেন পীযূষ। সেখানে তাঁর বেতন ছিল মাসে মাত্র ৩,০০০ টাকা। সেই চাকরি অবশ্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। নাসিকে ফিরে আসার পর এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। মজার বিষয় হল, ইন্টারভিউটি ছিল বন্ধুর জন্য, কিন্তু পীযূষের কথাবার্তা পছন্দ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত চাকরিটি পান তিনিই (Success Story)।
আরও পড়ুন: একী কাণ্ড! পড়ুয়াদের কাছে মাদকদ্রব্য সরবরাহ খোদ শিক্ষকের, কড়া অ্যাকশন পুলিশের
চাকরির অভিজ্ঞতা থেকেই ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসা শুরু করার ভাবনা তৈরি হয়। ২০০৪ সালে পীযূষ এবং তাঁর সাত বন্ধু মিলে নাসিকের কলেজ রোডের একটি কিন্ডারগার্টেনের ছোট্ট ঘরে ওয়েব হোস্টিং ও সাপোর্টের কাজ শুরু করেন। কোনও বড় অফিস ছিল না, ছিল না বড় বিনিয়োগকারীর সাহায্যও। একটি কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রযুক্তি ব্যবসা গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাস—এই নিয়েই পথচলা শুরু। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ESDS বা Exuberant Support and Data Center Services নামে নিবন্ধিত হয়। সময়ের সঙ্গে ব্যবসা বাড়তে থাকে এবং বিদেশের বাজারেও প্রবেশ করে সংস্থাটি। তবে পরবর্তীকালে মূল সাত অংশীদারের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয় এবং একে একে অন্যরা ব্যবসা থেকে সরে যান। ফলে ESDS-এর ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বড় দায়িত্ব এসে পড়ে পীযূষের কাঁধে।
ব্যবসার পরবর্তী বড় মোড় আসে ২০০৮ সালে। ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়বে—এই সম্ভাবনা আঁচ করে নাসিকের সাতপুর শিল্পাঞ্চলে প্রায় এক একর জমি কিনে নিজস্ব ডেটা সেন্টার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন পীযূষ। সেই সময় এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা ছিল যথেষ্ট বড় ঝুঁকি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০১০ সালে ডেটা সেন্টারটি চালু হয়। এরপর ধীরে ধীরে ক্লাউড পরিষেবা, ডেটা সেন্টার এবং AI পরিকাঠামো-সহ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ESDS-এর ব্যবসা বিস্তৃত হতে থাকে। বিদেশের বাজারেও অধিগ্রহণের মাধ্যমে সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানো হয়। ছোট্ট একটি ঘরে শুরু হওয়া ব্যবসা তখন ক্রমেই বড় প্রযুক্তি সংস্থার চেহারা নিতে শুরু করে।

আরও পড়ুন: দেশের ৫১,০০০ যুবক-যুবতী পেলেন চাকরি! রোজগার মেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ESDS-এর আর্থিক বৃদ্ধিও সেই যাত্রারই প্রতিফলন। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষে অপারেশনাল রেভিনিউ যেখানে প্রায় ৩৬১.৩ কোটি টাকা ছিল, ২০২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৪৭২.২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে মুনাফাতেও বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির পর সংস্থার ভ্যালুয়েশন আরও বাড়ে এবং BSE-র তথ্য অনুযায়ী বাজার মূলধন প্রায় ১৯,০৬৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ৩,০০০ টাকার চাকরি থেকে শুরু করে ৭ বন্ধুর সঙ্গে একটি ছোট ঘরে ব্যবসা—সেখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রযুক্তি সংস্থা গড়ে তোলার এই যাত্রা দেখাচ্ছে, বড় উদ্যোগের শুরু সবসময় বড় জায়গা বা বড় পুঁজির হাত ধরেই হয় না (Success Story)।













