পঞ্চায়েতের কর আদায়ে বড় বদল! বাড়িপিছু ১২০০ টাকার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিল রাজ্য

Published on:

Published on:

target of 1200 per family in Panchayat revenue
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক (Panchayat Revenue) স্বনির্ভরতা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল পঞ্চায়েত দফতর। শুধু সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর না থেকে নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবার বিস্তারিত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় কর আদায়ের নির্দিষ্ট সময়সীমা থেকে শুরু করে বকেয়া আদায়ের পদ্ধতি এবং বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির রূপরেখাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য পঞ্চায়েতের আয় (Panchayat Revenue) বাড়াতে এসওপি জারি

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্ম খতিয়ে দেখে দেখা যায়, বহু এলাকায় প্রশাসনিক গতি কমে গিয়েছে। কোথাও নিয়মিত রাজস্ব সংগ্রহ হচ্ছে না, কোথাও আবার কর আদায়ের নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েতগুলিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে নতুন নীতিমালা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসওপি অনুযায়ী, কর জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন ঘোষণার পর সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহের মধ্যেই পঞ্চায়েতকে সংগ্রহ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য প্রয়োজনে অফলাইনে কর জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যাঁরা কর পরিশোধ করবেন না, তাঁদের পৃথক তালিকা তৈরি করতে হবে। সেই তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যেও বকেয়া না মেটালে, গ্রাম পঞ্চায়েত বৈঠক ডেকে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শুধু কর সংগ্রহ নয়, আয় বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন উৎস খুঁজে বের করার নির্দেশও দিয়েছে দফতর। বিভিন্ন এলাকায় কর সচেতনতা শিবির আয়োজন, প্রয়োজনে স্থানীয় বিধায়কদের সহযোগিতা নেওয়া, টোল আদায়যোগ্য রাস্তা, সেতু বা ফেরিঘাট চিহ্নিত করা এবং বিজ্ঞাপন বা হোর্ডিং থেকে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পর্যটন, হোমস্টে, কমিউনিটি হল, হোটেল, ফেরিঘাট, ল্যাবরেটরি-সহ পঞ্চায়েতের মালিকানাধীন সম্পত্তি লিজে দিয়ে অতিরিক্ত আয়ের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী অর্থ কমিশনের পারফরম্যান্স গ্রান্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতের নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। সেই কারণেই পঞ্চায়েতগুলিতে বর্তমানে বাড়িপিছু গড় কর আদায় ২৩৩ টাকা থেকে ১২০০ টাকা অবধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সামনে তুলে ধরতে হবে, তাঁদের দেওয়া করের অর্থ কীভাবে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

target of 1200 per family in Panchayat revenue

আরও পড়ুন :‘৬০ বছর ধরে আছি’ যুক্তি মানল না হাইকোর্ট, রেলের উচ্ছেদে সবুজ সংকেত

আগেই পঞ্চায়েত প্রধানের হাত থেকে আর্থিক ক্ষমতা সরিয়ে সরকারি আধিকারিকদের হাতে দেওয়া হয়েছে। এবার এসওপি জারি করে পঞ্চায়েতে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচন করছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের আশা, নতুন এসওপি কার্যকর হলে রাজস্ব সংগ্রহে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনই পঞ্চায়েতগুলিও ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।