বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাঙালির চিরকালীন আবেগের নাম বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এ বছর তাঁর স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের দাবিও সামনে এল। শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের (Shyambazar Metro) নাম তাঁর নামে করার আবেদন জানালেন পরিবারের সদস্যরা। এদিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মবার্ষিকীতে উত্তর কলকাতার আহিরীটোলায় শিল্পীর বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামে শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশন(Shyambazar Metro)
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবারের সদস্যরা পুর মন্ত্রীর কাছে তাদের এই বিশেষ আবেদন তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন। ১৯০৫ সালের ৪ঠা অগাস্ট আহিরীটোলার জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রখ্যাত বেতার শিল্পী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কণ্ঠস্বর আজও বাঙালির দুর্গাপুজোর আবেগের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে এ দিন সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় জমান অসংখ্য অনুরাগী, সংস্কৃতিপ্রেমী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। ফুল ও মাল্য অর্পণের মাধ্যমে তাঁরা প্রিয় শিল্পীকে স্মরণ করেন। সকালে সেখানে পৌঁছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মূর্তিতে মাল্যদান করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বসেন। সেই সময়ই পরিবারের পক্ষ থেকে শিল্পীর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবারের তরফে বলা হয়েছে, শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামে রাখা হোক। এছাড়াও আকাশবাণী ভবনের ভিতরে তাঁর একটি মূর্তি স্থাপন করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাঁর অবদান সম্পর্কে আরও বেশি করে জানতে পারে।পরিবারের বক্তব্য শোনার পর পুরমন্ত্রী জানান, দাবিগুলি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনবেন। তবে এই মুহূর্তে প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়ন হবে কি না, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দেননি তিনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

আরও পড়ুন : ক্ষমা যথেষ্ট নয়! প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও গায়েব হওয়ার প্রসঙ্গে মেটাকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের
প্রসঙ্গত, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নাম উচ্চারিত হলেই বাঙালির কানে ভেসে ওঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। প্রতি বছর মহালয়ার সকালে সেই চিরচেনা কন্ঠ ছাড়া পুজোর আবহ যেন অনেকের কাছেই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এখন নজর রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে। পরিবারের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলি প্রশাসনিক স্তরে কতটা গুরুত্ব পায় এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ভবিষ্যতে কোনও সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটাই দেখার।

















