বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ইতিমধ্যেই ভাঙন ধরেছে তৃণমূলের অন্দরে। মাঝেমধ্যেই যা প্রকট হয়ে উঠছে প্রকাশ্যে। এই পরিস্থিতিতে ঘর সামলাতে আরও একবার ‘দ্বিগুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর’ বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে লাইভে এসে রাজ্যের শাসক শিবিরকে আরও একবার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মমতা। বললেন, ‘আমি চেয়ার কে কেয়ার করি না।’
নবগঠিত বিজেপি সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, ‘রাজ্যে এখন মাফিয়াদের মদত দেওয়া হচ্ছে । বক্সার কুস্তিগীর ব্রিজভূষণ কেস থেকে শুরু করে আড়াই বছরের বাচ্চাকে আপনারা বিচার দেন না। প্রায় ২১-২২ জন মহিলা ধর্ষিতা হয়ে গেছেন।’ এরপরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবী, ‘একজনেরও ঘটনা ঘটলে আমরা সব সময় অ্যাকশন নিয়েছি।’ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, ‘এতজন মহিলা ধর্ষিতা হয়ে যাওয়ার পরও আপনারা কারও বাড়িতে যোগাযোগ করতে দিচ্ছেন না। পুলিশ দিয়ে থ্রেট করছেন যাতে কেউ আসতে না পারে। এইভাবে চলবে?’
পালাবদলের পর থেকে রাজ্যজুড়ে প্রসাশনিক স্তরেও শুরু হয়েছে বিজেপি সরকারের গেরুয়াকরণ। তাই রাজ্য সরকারকে একপ্রকার খোঁচা দিয়েই তৃণমূল সুপ্রিমো এদিন বললেন, ‘ওবিসি থেকে শুরু করে ঐকশ্রী আমি জীবনে কোনোদিন মুখ্যমন্ত্রীর নামে যোজনা করিনি। কারণ আমি নিজের নামে আত্মপ্রচার কখনও বিশ্বাস করি না। আমাদের যোজনা পাল্টে গিয়ে নাম হল মুখ্যমন্ত্রী যোজনা। প্রধানমন্ত্রী যোজনা। কেন দেশে আর কেউ নেই? স্টেডিয়াম থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবই ওদের নামে হচ্ছে।’
আরও পড়ুনঃ ‘দেখতে থাকুন এখনও অনেক বাকি…’, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সাথে বৈঠক শেষে জানালেন শুভেন্দু
সম্প্রীতির বার্তা দিতে গিয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রসঙ্গ তুলে মমতা এদিন বললেন, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে সম্মান দিতে পারে না আর অসম্মানিত যারা তাদেরকে নিয়ে এসে মালা পড়ায়। নেতাজি সম্প্রীতির প্রতীক ছিলেন। ভাগাভাগি করবেন না। আপনারা কোথা থেকে জুটলেন একটা পার্টি! যে পার্টিটার না আছে কোন ভূত, না আছে কোন ভবিষ্যৎ। শুধু অত্যাচার করতে শিখেছেন, আর মহিলাদের ঘৃণা করতে শিখেছেন। আর ছাত্র যুবদের গালিগালাজ দিতে শিখেছেন।’
বিজেপি সরকারকে ধিক্কার জানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে হাতজোড় করে নেত্রী জানতে চেয়েছেন, ‘এখনও কি আপনারা চুপ থাকবেন?সামটাইম সাইলেন্স ইজ গোল্ড । কিন্তু মনে রাখবেন কখনও কখনও সময় আসে যখন সব বাঁধ ভেঙে যায় । শুধু কারাগার সামনে দাঁড়ায় । তখন কিন্তু নদী পথ গতিরোধ করা যায় না, নদী কিন্তু আপন পথে এগিয়ে চলে।’
বিজেপি সরকারকে আরও একবার হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ কি ভাবছেন সরকারি দল আপনারা ঠিক করবেন? বিরোধী দলও আপনারা ঠিক করবেন? তাহলে কি বিরোধী দল বলে আর কিছু থাকবে না? এটা শুধু লজ্জা কর নয় এটা নিন্দার ঝড় উঠবে আগামী দিনে। অপেক্ষা করুন ভবিষ্যৎ, ভবিষ্যৎ দেখাবে। এটাই ভবিতব্য। আমায় আপনারা যত আটকাবার চেষ্টা করবেন আমি তত আরও দ্বিগুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবো। আমি ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি ।আজও ছাত্র যুবদের হয়ে লড়াই করার মানসিকতা আমার আছে। মানুষ বিপদে পড়লে তাদের পাশে থাকা আমার কর্তব্য। আমি চেয়ারকে কেয়ার করি না। আমি মানুষকে কেয়ার করি। এটা মাথায় রাখবেন ভালো করে। লড়ে নেব। লড়ব,গড়ব জিতবো।’

















