বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতায় বেসরকারি বাসে যাতায়াতের খরচ (Bus Fare) বাড়তে পারে। দীর্ঘ আট বছর ধরে বাসভাড়ায় কোনও সংশোধন না হওয়ায় এবার ন্যূনতম ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলেছেন বাস মালিক ও অপারেটররা। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান ব্যয়ভার সামাল দিতে পুরনো ভাড়ার কাঠামো আর কার্যকর নয়। তাই ভাড়া পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে বিশেষ আর্থিক সহায়তার আবেদনও জানানো হয়েছে।
বাড়বে বাস ভাড়া (Bus Fare)?
জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত চালু হওয়ার পর থেকে বেসরকারি বাসে যাত্রী সংখ্যা আরও কমেছে। ফলে আয়ের উৎস কমে যাওয়ায় বাস মালিকদের আর্থিক চাপ বহুগুণ বেড়েছে।
বাস মালিকদের সংগঠনের কথায়, ২০১৮ সালের পর থেকে বাসভাড়া অপরিবর্তিত থাকলেও এই সময়ে ডিজেলের দাম, যন্ত্রাংশের মূল্য এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় একাধিকবার বেড়েছে। অন্যদিকে যাত্রী কমে যাওয়ায় আয়ও আগের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। সব মিলিয়ে বেসরকারি বাস পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে দাবি তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে বর্তমান ন্যূনতম ৮ টাকার বাসভাড়া বাড়িয়ে ২০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বর্তমানে চালু থাকা বাসভাড়া লাগু করা হয়েছিল ২০১৮ সালে। গত ৮ বছরে ভাড়ায় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০১৮ সালের ভাড়া নিয়ে আমরা ২০২৬ সালে বাঁচব কী করে? এখন ফের ভাড় সংশোধন করার সময় এসেছে। একমাত্র তবেই সমস্যার কিছুটা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” শুধু ভাড়া বৃদ্ধি নয়, রাজ্য সরকারের কাছে আরও একটি আর্থিক স্বস্তির দাবি তুলেছেন বাস মালিকরা।
বাস মালিক সংগঠনের আবেদন, বাহন-সংক্রান্ত বকেয়া জরিমানা এককালীন মুকুব করা হোক, যাতে ক্ষতির বোঝা কিছুটা হলেও কমে। এই দাবিগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আবেদন জানিয়েছেন বাস অপারেটরদের প্রতিনিধিরা। পরিবহণ মহলের একাংশের মতে, ব্যয় বৃদ্ধি এবং আয় কমে যাওয়ার জেরে শহরের বহু রুটে বেসরকারি বাস চালানো আর আগের মতো লাভজনক থাকছে না। সেই কারণেই একাধিক মালিক ইতিমধ্যে কিছু রুটে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন : মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক নিয়ে হাই কোর্টে মামলা, কী নির্দেশ দিল বেঞ্চ?
উল্লেখ্য, করোনা মহামারির আগে কলকাতার রাস্তায় যেখানে প্রায় ৬ হাজার বেসরকারি বাস চলাচল করত, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০-তে নেমে এসেছে। ফলে শহরের গণপরিবহণে বেসরকারি বাসের উপস্থিতি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এখন বাসভাড়া সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। সরকারের সবুজ সংকেত মিললে বহু বছর পর কলকাতার বেসরকারি বাসভাড়ায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে, যার প্রভাব পড়বে প্রতিদিনের লক্ষাধিক যাত্রীর পকেটেও।

















