বাংলা হান্ট ডেস্ক : গ্রামবাংলা থেকে ভিনরাজ্যে শ্রমিকদের কাজের খোঁজে চলে যাওয়ার প্রবণতা রুখতে নতুন পরিকল্পনার কথা জানাল পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। প্রশাসনের লক্ষ্য, স্থানীয় স্তরেই এমন কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করা, যাতে জেলার বাইরে পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন কমে। সেই উদ্দেশ্যেই ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পকে আরও জোরদার করার কথা জানালেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ঘোষণা পঞ্চায়েত মন্ত্রীর (Dilip Ghosh)
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে জয়হিন্দ অডিটোরিয়ামে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, “প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জল-জঙ্গলে ঘেরা প্রত্যন্ত সুন্দরবনের বহু মানুষ জীবিকা হারিয়ে বাধ্য হয়ে ভিনরাজ্যে চলে যান। এই প্রবণতা কমাতেই ১২৫ দিনের প্রকল্পের আওতায় সরকার স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
দিলীপ ঘোষের কথায়, শুধু কাজের সুযোগ বাড়ানোই নয়, প্রকল্পে মজুরির পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাঁর মতে, স্থানীয় স্তরে আয় বাড়লে বহু মানুষ আর অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হবেন না। একইসঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
সরকার নতুন গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড চালুর কাজও ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি বাইরে কাজ করতে গিয়ে যাঁরা বিভিন্ন কারণে নিজের জেলায় ফিরে আসছেন, তাঁদেরও এই প্রকল্পের আওতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। পঞ্চায়েত আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন দিলীপ ঘোষ।
বৈঠকে আবাস যোজনা নিয়ে আগের সরকারকে এক হাত নেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময় প্রকল্পটিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। বর্তমানে উপভোক্তাদের সমীক্ষার কাজ ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে। যাঁরা নিয়ম ভেঙে সরকারি আবাস প্রকল্পের অর্থ পেয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরত আদায়ের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন : জরিমানা থেকে কারাদণ্ড, নিয়ম না মানলে এবার আরও কড়া রেল
উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত না এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মন্ত্রী। স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নজরদারি জোরদার হলে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্য অনেকটাই সফল হবে বলেই আশাবাদী সরকার।

















