বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং দলবদলের প্রবণতা নিয়ে এবার বড় প্রশ্ন তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শিবসেনার নেতৃত্ব সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে শিবসেনার সাংগঠনিক কাঠামোর প্রসঙ্গ। আদালতের মতে, দলটির প্রাথমিক কাঠামো গণতান্ত্রিক নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সংবিধানে সংশোধন এনে দলের কাঠামো অনেকটাই এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে যায়। এখান থেকেই রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র কতটা বজায় থাকা উচিত, সেই প্রশ্ন সামনে আসে।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) পর্যবেক্ষণে চিন্তায় ঋতপন্থী তৃণমূল
প্রধান বিচারপতি জানতে চান, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাজনৈতিক দলগুলির নিজেদের সংগঠন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিও গণতান্ত্রিক হওয়া প্রয়োজন কি না।
শুনানিতে দলবদল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। একসময় দলবদলকে ‘সাংবিধানিক পাপ’ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে সেটিই যেন রাজনৈতিক গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও বিধায়ক বা সাংসদের হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন থাকলেই তিনি মূল রাজনৈতিক দলের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ বাংলার রাজনীতির ক্ষেত্রেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন, কালীঘাট বনাম ঋতব্রত শিবির এবং ‘এনসিপিআই’ গোষ্ঠীকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে শিবসেনা মামলার পর্যবেক্ষণের কোনও মিল তৈরি হয় কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
বাংলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক বিভাজনের সূত্রপাত মূলত পরিষদীয় দলকে ঘিরেই হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল পরিষদীয় দলের একাংশ দলীয় নেতৃত্বের উপর আস্থা হারিয়ে পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করে। পরে সেই গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেন স্পিকার রথীন্দ্র বোস।
শুধু বিধানসভাতেই নয়, লোকসভাতেও তৃণমূলের মধ্যে পৃথক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই গোষ্ঠী নিজেদের ‘এনসিপিআই’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, শিবসেনা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক দলের মূল সংগঠন এবং পরিষদীয় দলের সম্পর্ক নিয়ে যে ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে, বাংলার তৃণমূলের পরিস্থিতিতেও যদি একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ঋতব্রত-কাকলিদের বর্তমান অবস্থান কি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে?এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

আরও পড়ুন : শীঘ্রই খুলে যাচ্ছে পোর্টাল! কবে থেকে আবেদন? বেকারদের ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প নিয়ে নয়া আপডেট
যদিও ঋত শিবিরের পক্ষ থেকে এর পালটা যুক্তিও দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র পরিষদীয় দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মূল রাজনৈতিক দলের সমর্থনও তাঁদের পক্ষেই রয়েছে। এখন গোটা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, সাংগঠনিক কাঠামোর বৈধতা কোথায় এবং কোন গোষ্ঠীকে মূল রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর কমিশনের সিদ্ধান্তে অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।













