বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের মুকুটে আরও পালক যোগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সারনাথের (Sarnath) বৌদ্ধ প্রত্নক্ষেত্র ইউনেস্কোর (UNESCO) ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পরেই দেশের আরও ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক স্থানের নাম উঠে এসেছে ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ টেন্টেটিভ লিস্ট’-এ। ২০২৫ সালে চার দফায় এই জায়গাগুলিকে সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকাভুক্তি ভবিষ্যতে ভারতের আরও কয়েকটি ঐতিহ্যস্থানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথ তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য, সারনাথেই প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ তাঁর পাঁচ শিষ্যের কাছে প্রথম ধর্মোপদেশ দিয়েছিলেন বলে ঐতিহাসিকভাবে মনে করা হয়।
ইউনেস্কোর (UNESCO) হেরিটেজ তালিকায় ভারতের ১৪ ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সম্পদ
ইউনেস্কোর (UNESCO) নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ঐতিহাসিক বা প্রাকৃতিক স্থানকে সরাসরি বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়া হয় না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট দেশকে সেই স্থানকে টেন্টেটিভ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এরপর শুরু হয় বিশদ নথি যাচাই, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ডে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কোনও স্থান চূড়ান্ত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা পায়। ২০২৫ সালের প্রথম দফায় ১১ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি স্থান এই সম্ভাব্য তালিকায় যুক্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ছত্তীসগঢ়ের জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক, তেলেঙ্গানার প্রাগৈতিহাসিক মুদুমাল মেগালিথিক মেনহিরস, অশোকের শিলালিপি-সংবলিত বিভিন্ন স্থান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের চৌষট্টি যোগিনী মন্দির এবং উত্তর ভারতের গুপ্তযুগের মন্দিরগুলি।
আরও পড়ুন: ১৪৪ থেকে ২০৯! কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ড বাড়ানোর পথে রাজ্য
এরপর ৪ জুন উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র জেলার সলখন ফসিল পার্ককে টেন্টেটিভ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রাচীন জীবাশ্মের গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার হিসেবে বহুদিন ধরেই ভূতত্ত্ববিদদের কাছে জায়গাটি বিশেষ আগ্রহের। এরপর ২৭ অগস্ট একসঙ্গে আরও সাতটি প্রাকৃতিক ঐতিহ্যস্থানের নাম যোগ হয়। তালিকায় রয়েছে মহারাষ্ট্রের পঞ্চগণি ও মহাবালেশ্বরের ডেকান ট্র্যাপস, কর্ণাটকের সেন্ট মেরিজ় আইল্যান্ড ক্লাস্টার, মেঘালয়ের মেঘালয়ান এজ গুহা, নাগাল্যান্ডের নাগা হিল ওফিওলাইট, অন্ধ্রপ্রদেশের এরা মাট্টি ডিব্বালু, তিরুমালা পাহাড় এবং কেরলের ভারকালা উপকূলীয় ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল। এগুলির প্রত্যেকটির মধ্যেই ভারতের ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন, প্রাকৃতিক বৈচিত্র এবং দীর্ঘ ইতিহাসের আলাদা আলাদা ছাপ রয়েছে।
বছরের শেষ সংযোজন আসে ২২ ডিসেম্বর। সেদিন ওডিশার বিখ্যাত বৌদ্ধ ত্রিভুজ—রত্নগিরি, উদয়গিরি এবং ললিতগিরিকে একসঙ্গে ধারাবাহিক মনোনয়ন হিসেবে টেন্টেটিভ তালিকায় রাখা হয়। প্রাচীন ভারতে বৌদ্ধধর্মের প্রসার, শিক্ষা, মহাবিহার, ভাস্কর্য এবং বিশেষ করে বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের বিকাশে এই তিন কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে, নাগা হিল ওফিওলাইটের মতো স্থানের গুরুত্ব ভূতত্ত্বের দিক থেকেও অনন্য। অতীতে সমুদ্রতলের ভূত্বকের অংশ থাকা এই ধরনের শিলাস্তর টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে কীভাবে স্থলভাগে উঠে এসেছে, তার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায় সেখানে।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় চমক! সোমবারই চূড়ান্ত ঘোষণা শুভেন্দুর
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন তালিকাভুক্ত জায়গাগুলির মধ্যে অশোকের শিলালিপি-স্থল, ওডিশার বৌদ্ধ ত্রিভুজ, উত্তর ভারতের গুপ্তযুগের মন্দির, ডেকান ট্র্যাপস এবং কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক ভবিষ্যতে চূড়ান্ত স্বীকৃতির জন্য শক্তিশালী দাবিদার হতে পারে। তবে টেন্টেটিভ তালিকায় নাম ওঠা মানেই বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা নিশ্চিত নয়; তার জন্য এখনও দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বাকি। বর্তমানে সারনাথ-সহ ভারতের ৪৫টি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট রয়েছে। নতুন মনোনয়নগুলির যথাযথ মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ সম্ভব হলে আগামী দিনে সেই তালিকায় ভারতের আরও ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের নাম যুক্ত হতে পারে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা (UNESCO)।













