বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কমিশন গঠন করেছে। এবার কর্মী সংগঠনগুলি কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জমা দিয়েছে। বেতন বৃদ্ধি, ডিএ, বাড়িভাড়া ভাতা, পেনশন, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে এই দাবিগুলি মেনে নেওয়া হলে রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা বড় সুবিধা পেতে পারেন।
সপ্তম বেতন কমিশনে (7th Pay Commission) বেতন, DA ও পেনশন নিয়ে কী কী দাবি উঠল?
ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের নতুন নিয়ম : কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন নতুন করে হিসাব করা হোক। এতদিন যে নিয়মে বেতন নির্ধারণ করা হত, তা বদলে বর্তমান সময়ের খরচ ও পরিবারের চাহিদা মাথায় রেখে নতুন হিসাব করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধির দাবি : বছরে ৩ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের বদলে অন্তত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। কর্মীদের মতে, বাজারদর যেভাবে বাড়ছে, তাতে বর্তমান ইনক্রিমেন্ট যথেষ্ট নয়।
মূল্যবৃদ্ধির সূচক অনুযায়ী DA দেওয়ার দাবি : ডিএ নিয়েও বড় দাবি উঠেছে। কর্মী সংগঠনগুলির বক্তব্য, মূল্যবৃদ্ধির সূচক অনুযায়ী নিয়মিত ডিএ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় ডিএ নিয়ে যে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে, তা দূর করারও দাবি জানানো হয়েছে। দাবিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ যেন ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়। একই সঙ্গে বর্তমান ডিএ মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করে নতুন বেতন কাঠামো তৈরি করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
HRA ও ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্স বাড়ানোর দাবি : ভাতার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। বাড়িভাড়া ভাতা (HRA) এবং যাতায়াত ভাতা (Transport Allowance) বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
শিশুদের শিক্ষা ভাতা ও হস্টেল ভর্তুকি বৃদ্ধি : শিশুদের পড়াশোনার খরচ বাবদ ভাতা এবং হস্টেল খরচের ভর্তুকিও বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
পদোন্নতি ও কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্টে নতুন ব্যবস্থা : পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা আনার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে যে নিয়ম চালু আছে, তার বদলে কর্মীরা যাতে দ্রুত কেরিয়ার উন্নতির সুযোগ পান, সেই দাবিও করা হয়েছে।
পেনশন ও লিভ এনক্যাশমেন্টে বাড়তি সুবিধা : অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্যও বেশ কিছু সুবিধার দাবি উঠেছে। পেনশন সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন, লিভ এনক্যাশমেন্টে বাড়তি সুবিধা এবং অবসরের সময় অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রকল্পে আরও সুবিধা ও ক্যাশলেস চিকিৎসা : স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের দাবি রয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলি চাইছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমে আরও বেশি সুবিধা দেওয়া হোক এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করা হোক।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে রাজ্য মন্ত্রিসভা সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের অনুমোদন দেয়। পরে জুলাই মাসে কমিশনের কার্যপরিধি প্রকাশ করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক নবীন প্রকাশ। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ দুই দশকের নজির! একসঙ্গে ৮ নতুন বিচারপতি পাচ্ছে কলকাতা হাই কোর্ট
তবে এই মুহূর্তে বেতন কত বাড়বে, নতুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে বা ডিএ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সে বিষয়ে সরকার কোনও ঘোষণা করেনি। কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই এখন রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের নজর কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে (7th Pay Commission)।













