বাংলাহান্ট ডেস্ক: সপ্তম পে কমিশন (7th pay Commission) গঠনের পথে একটু একটু করে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই নয়া বেতন কমিশনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ‘শর্তাবলি ও কার্যপরিধি’ নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন (Nabanna)। এবার আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন-সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া যাবে সপ্তম বেতন কমিশনকে। একটি ওয়েবসাইট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই লক্ষ্যে।
পে কমিশনের প্রথম বৈঠকের নির্যাস | 7th pay Commission
জানা যাচ্ছে, সপ্তম পে কমিশনের গোটা প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার নিযুক্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত, যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে তার মাধ্যমে সপ্তম বেতন কমিশনকে পরামর্শ দেওয়া যাবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত, তথ্য প্রচার, পরামর্শ চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, তথ্য সংগ্রহ এবং স্মারকলিপি নেওয়ার জন্য ওয়েবসাইটটি চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু হবে। সোমবার প্রথমবারের জন্য নবান্নে বৈঠকে বসে সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কমিশনের ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ অনুযায়ী কর্মীদের বিভিন্ন পরিষেবা এবং বিধিবদ্ধ সংস্থা, নিগম ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও। ভবিষ্যত পথ পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কমিশনের সুপারিশ সংক্রান্ত নানা ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর তথ্য, কোনোরূপ যাচাই-না করেই অননুমোদিত নথি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে। এসব পোস্টের ফলে যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের পরিস্থিতি না হয়, সেই লক্ষ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে কমিশন সবেমাত্র কাজ শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সুপারিশ করা হয়নি কমিশন তরফে।
কমিশনের ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ সামনে এসেছে ইতিমধ্যে। নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বেতন কাঠামো, ন্যূনতম বেতন, বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি সহ ডিএ, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে বেতন স্তরের সামঞ্জস্য, অন্যান্য ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা-সহ একাধিক বিষয়ে পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের পরিবারকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার পাশাপাশি ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে ২৭০০ ক্যালোরির পরিবর্তে দৈনিক ৩৪৯০ ক্যালোরি পুষ্টির প্রয়োজনীয়তাকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদনের জন্য কত হতে হবে পারিবারের মাসিক আয়? সঠিকটা জানেন না অনেকেই
বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ করার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ পরিবর্তনের পাশাপাশি সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার তারিখের ওপরও। এছাড়াও নতুন পে-ম্যাট্রিক্স তৈরির বিষয় সহ একই ‘পে লেভেল’এর ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় সমতা, কেন্দ্রীয় পে কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া, পরিবহণ ভাতা সহ অন্যান্য ভাতাগুলো পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে অবসরকালীন সুবিধাসমূহও।













