বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। তাঁদের অনেকের নাম বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এবার এই সংক্রান্ত মামলাগুলির নিষ্পত্তি নিয়ে বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এখনও অবধি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে কতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে? মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট।
কমিশনকে তথ্য জমা দেওয়ার সুপ্রিম-নির্দেশ | (Supreme Court)
বাংলার ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা নিয়ে সম্প্রতি একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি ভি মোহানা ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। সেই শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচি কমিশনকে বলেন, “এখনও অবধি কতগুলি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, আমাদের সেই তথ্য জানাতে হবে। শুধুমাত্র আপিল দায়ের করলেই হবে না। সেই আপিলগুলির কী হচ্ছে সেটাও দেখতে হবে।“
আরও পড়ুনঃ ছোটাছুটি অতীত, এবার WhatsApp-এই পাওয়া যাবে আয়ুষ্মান কার্ড! সহজ পদ্ধতি জানুন
এদিন মামলাকারী অধীররঞ্জন চৌধুরীর আইনজীবী শীর্ষ আদালতে দাবি করেন, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকে পিডিএসের সুবিধা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের ধীর গতি নিয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
জবাবে বিচারপতি বাগচি স্পষ্ট করে দেন, ট্রাইব্যুনালে আপিল নিষ্পত্তির গতি ও পরিমাণ এই মামলার মূল বিষয়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে কার নাম বাদ পড়েছে কিংবা কার নাম রয়েছে, সেই বিষয়টি এই মামলার মুখ্য ইস্যু নয়।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে যারা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, সেই অভিযোগের বিষয়টি এই মামলার অধীন বিবেচনা করা হবে না। এই নিয়ে আলাদাভাবে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হবে।
অন্যদিকে কমিশনের পক্ষে আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নায়ডু শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন করেন, আগামী ২৫ আগস্ট অনুরূপ অন্যান্য মামলার সঙ্গে শুনানির জন্য এই মামলাটি তালিকাভুক্ত করা হোক। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

রাজ্যে এসআইআর ইস্যু সূত্রে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের কাজ যে গতিতে চলছে, তাতে সব আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে। সেই কারণে বিশেষত মালদহ, মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় অবিলম্বে ব্লক ভিত্তিক অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করা দরকার বলে আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগ করা উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন সেই মামলার শুনানিতে কমিশনকে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ২৫ আগস্টের শুনানিতে শীর্ষ আদালতে কী হয় সেটাই দেখার।













