বাংলা হান্ট ডেস্ক: কলকাতার মাটির নীচে মেট্রো (Kolkata Metro Purple Line) সম্প্রসারণের কাজে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হল। প্রথম টানেল বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’ (Durga)-র পর এবার দ্বিতীয় মেশিন ‘দিব্যা’ (Divya) ও খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়ার দিকে প্রায় ১,৭৪০ মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ করেছে। ফলে জোকা–এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের খিদিরপুর–ভিক্টোরিয়া অংশে জোড়া সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ শহরতলির জোকা থেকে পশ্চিম কলকাতা হয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলের সঙ্গে মেট্রো যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো (Kolkata Metro Purple Line) প্রকল্পের কাজে বড় সাফল্য!
‘দিব্যা’র এই ভূগর্ভস্থ যাত্রা অবশ্য একেবারেই সহজ ছিল না। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার নীচ দিয়ে, ভূগর্ভস্থ জল এবং উপরের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে মাথায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সুড়ঙ্গ কাটতে হয়েছে। প্রতিটি ধাপে মাটির চাপ, ভূস্তরের স্থিতিশীলতা এবং আশপাশের পরিকাঠামোর নিরাপত্তার দিকে নজর রাখা হয়েছে। কোনও ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন হওয়াকে তাই বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে কলকাতা মেট্রো। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলেই এই জটিল কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে (Kolkata Metro Purple Line)।
মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার প্রেমসাগর গুপ্তা জানিয়েছেন, ‘দিব্যা’ প্রায় ১৭৪০ মিটার পথের সুড়ঙ্গ খনন করেছে এবং এই কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ মাস। তাঁর কথায়, সফল ভাবে টানেলিং শেষ করা যে কোনও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের কাছে বড় স্বপ্নের মতো। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ত এবং ঐতিহ্যবাহী এলাকার নীচে কোনও ক্ষতি না করে এই কাজ শেষ করতে পারা তাঁদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ‘দিব্যা’র মাধ্যমে দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। তার আগে একই রুটে প্রথম সুড়ঙ্গ তৈরির দায়িত্বে ছিল ‘দুর্গা’।
কলকাতার অন্যতম ঐতিহাসিক এলাকা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আশপাশ দিয়ে মাটির নীচে এই মেট্রো সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ হওয়ায় শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। গত জুলাইয়ে ‘দুর্গা’ প্রথম সুড়ঙ্গের কাজ শেষ করে ভিক্টোরিয়ার দিকে পৌঁছেছিল। এবার ‘দিব্যা’র কাজ শেষ হওয়ায় খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত দুই দিকের সুড়ঙ্গ তৈরির প্রক্রিয়া কার্যত আরও এগিয়ে গেল। সামনে রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে এই ভূগর্ভস্থ অংশকে যুক্ত করার পরবর্তী ধাপ। এই অংশের কাজ যত এগোবে, ততই পার্পল লাইনের কলকাতার কেন্দ্রের দিকে পৌঁছনোর পথ পরিষ্কার হবে।

আরও পড়ুন: ১৫ অগাস্টে লালকেল্লায় নতুন ইতিহাস! প্রথমবার গাওয়া হবে বন্দে মাতরম, থিমেও থাকছে বড় চমক
‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’র পর এখন নজর ভিক্টোরিয়া থেকে পার্ক স্ট্রিটের দিকে। জোকা–এসপ্ল্যানেড করিডরের (Kolkata Metro Purple Line) এই অংশটি সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ কলকাতা ও শহরতলির বহু মানুষের কলকাতার কেন্দ্রস্থলে যাতায়াত অনেকটাই সহজ হতে পারে। সড়কপথের উপর চাপ কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহণ ব্যবস্থাতেও এর বড় প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একের পর এক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে মাটির নীচে এগিয়ে চলা এই প্রকল্প তাই শুধু নতুন একটি মেট্রো রুট তৈরির কাজ নয়, বরং কলকাতার পরিবহণ পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক করে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।













