বাংলা হান্ট ডেস্ক : রান্নার গ্যাসের ই-কেওয়াইসি (E-KYC) করাতে গিয়ে বাড়তি খরচের বোঝা চাপানোর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়ার জগৎবল্লভপুর। স্থানীয় এক গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের গ্যাসের পাইপ, বার্নার-সহ নানা সরঞ্জাম কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষোভে মুন্সিরহাটে হাওড়া-আমতা রোড অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন একাধিক গ্রাহক।
রান্নার গ্যাসের ই-কেওয়াইসি (E-KYC) করাতে গিয়ে বিপত্তি
ওই এলাকার গ্রাহকদের অভিযোগ, ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করতে ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গেলেই বিভিন্ন সামগ্রী কেনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি না কিনলে ই-কেওয়াইসি করা হচ্ছে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মুন্সিরহাট এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
এদিন ই-কেওয়াইসি করানোর জন্য এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। জানা গেছে, এক হাজারেরও বেশি গ্রাহক লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। এর মধ্যেই অতিরিক্ত টাকা খরচের অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।
ই-কেওয়াইসি করাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ার কথা জানিয়েছেন গ্রাহক অঞ্জলি ভুঁইয়া। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় টাকা সঙ্গে না থাকায় তিনি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি। ফলে কাজ না করিয়েই তাঁকে ফিরে যেতে হয়েছে। অবরোধে অংশ নেওয়া গ্রাহক বিপুল মাইতি বলেন, তাঁরা বহু বছর ধরে গ্যাস ব্যবহার করছেন। তাহলে ই-কেওয়াইসির সময় হঠাৎ করে নতুন নিয়মের কথা বলা হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।
অন্য দিকে, সৌমেন্দ্র কাঁড়ার নামে এক গ্রাহকের অভিযোগ, ই-কেওয়াইসি করানোর জন্য গ্রাহকদের জোর করে বিভিন্ন জিনিস কেনানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই সংক্রান্ত কোনও সরকারি নির্দেশও তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বিক্ষোভরত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। বেশ কিছুক্ষণ পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
তবে গ্রাহকদের তোলা অভিযোগ মানতে নারাজ সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটর। তাঁর বক্তব্য, গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনও গ্রাহককে সেই সামগ্রী কিনতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন : অফিস যাত্রীদের ঝক্কি শেষ ! চলতি বছরেই কলকাতার এই মেট্রো রুটে শুরু পরিষেবা
গ্রাহকদের অভিযোগ সত্যি হলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বৈধতা নিয়ে। আর ডিস্ট্রিবিউটরের দাবি অনুযায়ী যদি সামগ্রীগুলি শুধুই নিরাপত্তার স্বার্থে কেনার পরামর্শ হয়ে থাকে, তা হলে ই-কেওয়াইসি আটকে দেওয়ার অভিযোগেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয় এখন, সেটাই দেখার।













