বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের ব্যাঙ্কগুলিতে দীর্ঘদিন আনক্লেইমড অর্থাৎ দাবিহীন অবস্থায় (Unclaimed Funds) পড়ে রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। মূলত, গত ৩০ জুন পর্যন্ত, দেশের ব্যাঙ্কগুলির কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘদিন ধরে দাবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী (Pankaj Chaudhary) গত মঙ্গলবার রাজ্যসভাকে জানান যে, RBI (Reserve Bank of India)-এর ডিপোজিটর এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস ফান্ড তথা DEA ফান্ড-এ মোট ৮৬,৯১৭ কোটি টাকা (প্রায় ৮৬০ মিলিয়ন ডলার) দাবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। এতে সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার।
RBI-তে দাবিহীন অবস্থায় (Unclaimed Funds) পড়ে রয়েছে ৮৬,৯১৭ কোটি টাকা:
তথ্য অনুযায়ী, SBI তার আনক্লেইমড ফান্ডের ২০,০৪০ কোটি টাকা DEA ফান্ডে স্থানান্তর করেছে। এর পরেই রয়েছে PNB। যাদের এই ফান্ডে ৭,৫৮৫ কোটি টাকা রয়েছে। এছাড়াও, কানাড়া ব্যাঙ্কের ফান্ড ৬,৮৩০ কোটি টাকা, ব্যাঙ্ক অফ বরোদার ফান্ড ৫,৮৪৮ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ফান্ড ৫,৫৪৯ কোটি টাকা।

বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ICICI ব্যাঙ্ক: জানিয়ে রাখি যে, বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে ICICI ব্যাঙ্ক সবার শীর্ষে রয়েছে। DEA ফান্ডে এই ব্যাঙ্কের ২,২৭৮ কোটি টাকার আনক্লেইমড ফান্ড রয়েছে। এর পরে, HDFC ব্যাঙ্কের রয়েছে ১,৯১২ কোটি টাকা এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের আনক্লেইমড ফান্ডের পরিমাণ ১,৭৩৪ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছেড়ে এই টিমের অধিনায়ক হতে চান হার্দিক! রাজি নয় ফ্র্যাঞ্চাইজি
আনক্লেইমড ফান্ড কী: এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে যে, আনক্লেইমড ফান্ড বিষয়টা ঠিক কী? মূলত, যদি কোনও সেভিংস বা কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ১০ বছর ধরে কোন লেনদেন না হয়, তখন সেটিকে বন্ধ বলে গণ্য করা হয়। একইভাবে, কোন টার্ম ডিপোজিট ম্যাচুরিটির পর ১০ বছর ধরে দাবিহীন থাকলে, সেটিও আনক্লেইমড ফান্ডের ক্যাটাগরিতে পড়ে। এরপর ব্যাঙ্কগুলি এই টাকা RBI-এর DEA ফান্ডে স্থানান্তর করে।
আরও পড়ুন: চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগের সংবাদে প্রভাবিত শেয়ার বাজার! টাটা গ্রুপের একাধিক সংস্থার স্টকে বিরাট পতন
টাকা ফেরতও দেওয়া যেতে পারে: উল্লেখ্য যে, এই ফান্ড মূলত আমানতকারীর কল্যাণে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। তবে, যদি প্রকৃত মালিক বা তাঁদের আইনসম্মত উত্তরাধিকারীরা পরবর্তীতে টাকা দাবি করেন, তাহলে ব্যাঙ্ক তা ফেরত দেবে। ৩০ জুনের মধ্যে, এই ধরণের দাবি পরিশোধের জন্য DEA তহবিল থেকে ব্যাঙ্কগুলিকে ১৭,৪১৫ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছিল। আনক্লেইমড ফান্ডের পরিমাণ কমাতে RBI এবং সরকারও পদক্ষেপ নিচ্ছে। ব্যাঙ্কগুলিকে গ্রাহক, নমিনি ও আইনানুগ উত্তরাধিকারীদের খুঁজে বের করার জন্য পর্যায়ক্রমিক বিশেষ অভিযান চালাতে এবং প্রতি মাসে তাদের ওয়েবসাইটে আনক্লেইমড ফান্ড সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করতেও বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি আর্থিক তথ্য সংক্রান্ত প্রচারও চালানো হচ্ছে।













