বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Case) নাম জড়িয়েছে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের (Nirmal Ghosh)। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হলেন তিনি। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর তাঁর বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নির্মল সহ তিনজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ | (Nirmal Ghosh)
গত রবিবার আরজি কর কাণ্ডের দু’বছর হয়েছে। সেদিন এই ঘটনায় পুনর্তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সোমবার খড়দহ থানায় এফআইআর দায়ের করেন মৃত চিকিৎসক পড়ুয়ার বাবা। সেখানে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়। এরপরেই গ্রেফতার হলেন নির্মল।
আরও পড়ুনঃ ব্যাঙ্ক, রেল বা আয়কর কর্মী ঘুষ চেয়েছে? সোজা ফোন করুন সিবিআইকে, দেওয়া হল নম্বর
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন করে এফআইআর দায়ের হতেই ওড়িশায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। পুলিশের চোখে ফাঁকি দিতে নতুন সিমকার্ড ব্যবহার শুরু করেন। সেই সিমের মাধ্যমে কয়েকজন ঘনিষ্ঠের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার টাওয়ার লোকেশন ধরে নির্মলের গতিবিধি সম্বন্ধে জানতে পারেন তাঁরা। এরপর এদিন সকালে পুরী সংলগ্ন একটি হোটেলে হানা দিয়ে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ককে পাকড়াও করা হয়।
এদিকে গত রবিবার আরজি কর কাণ্ডের পর শ্মশানে গিয়ে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের ঘটনায় নির্মলের পাশাপাশি সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দে নামে দু’জনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ঘোলা থানার নাটাগড় কদমতলা শ্মশানঘাটে নির্যাতিতার দাহের সময় বেআইনি কাজ করা হয়েছিল। দাহকার্যের সিরিয়াল নম্বরে তিন নম্বরে নাম থাকলেও তা বদলে এক নম্বরে এনে তড়িঘড়ি দাহ করা হয়।

শুভেন্দু অভিযোগ করেন, আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার দাহকার্যের জন্য শ্মশানের নির্ধারিত খরচ বাড়ির লোক দেয়নি। এমনকি মৃতার পরিবারের কোনও নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি।
এরপর সোমবার পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল, নির্যাতিতার প্রতিবেশী সঞ্জীব ও নির্যাতিতার বাড়ির এলাকার পুর প্রতিনিধি সোমনাথের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। এরপর কয়েকদিন যেতে না যেতেই গ্রেফতার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক।













