বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাজ্যের বাস পরিষেবায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে কলকাতায়।
গণপরিবহন নিয়ে নয়া পরিকল্পনা সরকারের (West Bengal Government)
পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগেই কলকাতার রাস্তায় ৫০০টি নতুন বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরবর্তী ধাপে আগামী মার্চের মধ্যে আরও ১০০০টি বাস শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে সব পরিকল্পনা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী এগোলে এক বছরের মধ্যে কলকাতা প্রায় ১৫০০টি নতুন বাস পেতে পারে। নতুন বাসগুলির ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রী পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নত করার দিকেও নজর দিয়েছে সরকার। কসবা ডিপোতে যাত্রীদের জন্য নতুন অপেক্ষাকেন্দ্র তৈরির পাশাপাশি শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং হাই-মাস্ট এলইডি আলো বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কাজগুলির জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কসবা থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক বাস রুট পরিচালিত হওয়ায় নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে প্রতিদিনের যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
কলকাতার বাইরে আঞ্চলিক বাস পরিষেবাকেও আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। উমরপুর এবং ডেবরায় আঞ্চলিক বাস টার্মিনাল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নিউ টাউনেও ইলেকট্রিক বাসের চার্জিং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি অ্যাকশন এরিয়া ২-তে একটি নতুন স্মার্ট বাস শেল্টার তৈরির জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ফলে বাস পরিষেবার আধুনিকীকরণে শুধু গাড়ির সংখ্যা নয়, যাত্রীদের অপেক্ষার জায়গা এবং বাস পরিচালনার সহায়ক পরিকাঠামোকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন : আধার অ্যাপের পিন বদলাবেন কীভাবে? ঘরে বসেই মিনিটে করুন কাজ
আগামী দিনে বাংলার বাস পরিষেবায় পরিবর্তন আসতে পারে একাধিক দিক থেকে। নতুন বাসের সংযোজনের পাশাপাশি ডিপো ও টার্মিনালের উন্নয়ন, ইলেকট্রিক বাসের জন্য চার্জিং ব্যবস্থা এবং স্মার্ট যাত্রী পরিষেবা—সব মিলিয়ে একটি আধুনিক গণপরিবহণ কাঠামো তৈরির দিকে এগোচ্ছে রাজ্য। পরিকল্পনাগুলি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে আগামী এক বছরেই কলকাতার বাস মানচিত্রে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।













