বাংলা হান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে থেকে পুলিশের ডিএসপি—সোনু কুর্মির (Sonu Kurmi) এই সাফল্যের (Success Story) সফর মোটেই সহজ ছিল না। জীবনের শুরু থেকেই আর্থিক অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। তার উপর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা এবং পরবর্তী সময়ে গভীর মানসিক অবসাদের মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোনও বাধাই শেষ পর্যন্ত তাঁর স্বপ্নের পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নিজের উপর বিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের জোরেই মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) পরীক্ষায় সাফল্য পান সোনু। বর্তমানে তিনি মধ্যপ্রদেশ পুলিশের ডিএসপি পদে কর্মরত।
সোনু কুর্মির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
সোনুর শৈশবের দিনগুলিও ছিল সংগ্রামে ভরা। তাঁর বাবা ছিলেন প্রান্তিক কৃষক। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের নানা দায়িত্বও তাঁকে সামলাতে হত। দিনের বেশিরভাগ সময় বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করতেন তিনি। কখনও জমিতে কোদাল চালানো, কখনও ফসলের পরিচর্যা, আবার কখনও বাড়ির প্রয়োজনীয় কাজ—সবই ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু দিনের ক্লান্তি তাঁকে বই থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। কাজ শেষ করে রাতে নিয়মিত পড়াশোনা করতেন। সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার (Success Story)।
আরও পড়ুন: তিন কামরার বাড়ি থাকলেও মিলবে অন্নপূর্ণার টাকা! তবে মানতে হবে এই শর্ত, জানুন কারা যোগ্য
তবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি চলাকালীনই আচমকা বড় ধাক্কা আসে। গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পড়াশোনার ছন্দ দুটোই ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার ফলে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন সোনু। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি তাঁকে গভীর অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়। যে মানুষটি প্রতিদিন নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই করছিলেন, একটা সময় তাঁর কাছেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই কঠিন সময়ে পরিবার তাঁর পাশে ছিল। পাশাপাশি নিজের ক্ষমতার উপর বিশ্বাস হারাননি সোনু। ধীরে ধীরে মানসিক অন্ধকার কাটিয়ে ফের পড়াশোনায় মন দেন তিনি।
অসুস্থতা কাটিয়ে ফিরে এসে নিজের প্রস্তুতির ধরনেও বড় পরিবর্তন আনেন সোনু। লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিদিন প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতে শুরু করেন। শুধু বেশি সময় পড়াই নয়, আগের ভুলগুলো কোথায় হয়েছিল, কোন জায়গায় ঘাটতি ছিল—সেগুলিও খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করেন। প্রথমবার MPPSC পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি তিনি। কিন্তু সেই ব্যর্থতাকে শেষ বলে মেনে নেননি। বরং সেটাকেই পরের চেষ্টার প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগান। আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন এবং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান।

আরও পড়ুন: বেতনবৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের দ্রুত প্রোমোশন? সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বিরাট আপডেট
শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই পরিশ্রমই সাফল্যের (Success Story) মুখ দেখায়। ২০১৫ সালের MPPSC PCS পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে ১৮তম স্থান অর্জন করেন সোনু কুর্মি। তাঁর এই সাফল্যের সঙ্গে আসে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের ডিএসপি হওয়ার সুযোগও। কৃষকের ছেলে হিসেবে যে তরুণ একসময় মাঠে বাবার সঙ্গে কাজ করতেন, তিনিই পরবর্তীতে পুলিশের দায়িত্বশীল পদে জায়গা করে নেন। সোনুর গল্প তাই শুধু একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার কাহিনি নয়; বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে চলার উদাহরণ। অর্থের অভাব, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা মানসিক বিপর্যয়—কোনও কিছুই যে দৃঢ় সংকল্পের সামনে শেষ কথা নয়, তাঁর জীবনযাত্রাই তার প্রমাণ।













