বাংলা হান্ট ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhas Chandra Bose) কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে একাধিক বিতর্ক। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কান্ডারী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উদ্যেশ্যে অপমানজনক মন্তব্য করে আগেই বিপাকে পড়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। এসবের মধ্যেই বীরভূমের রামপুরহাট এলাকায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামাঙ্কিত রাস্তার (Rampurhat Road named on Netaji) নাম রাতারাতি বদলে দেওয়ায় তৈরী হয় আরও এক নতুন বিতর্ক।
বিতর্কের জেরে ফিরল রামপুরহাটের রাস্তার নাম
আসলে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ১২ অগস্ট। বীরভূমের রামপুরহাটে অবস্থিত ঐতিহাসিক রাস্তা ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোড’ অনেক পুরনো। যা এই এলাকার ব্যস্ততম রাস্তাগুলির মধ্যেও অন্যতম বলে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ওইদিন আচমকাই বদলে দেওয়া হয় ওই রাস্তার নাম। রাতারাতি শহরের অন্যতম প্রধান সড়কের নাম ‘নেতাজি রোড’ এর বদলে করা হয় ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড’ (Shyamaprasad Mukherjee Road)।
প্রসঙ্গত বহু দশক ধরে ‘নেতাজি রোড’ নামে পরিচিত এই রাস্তাটি রামপুরহাট পুরসভার পাঁচমাথা মোড় থেকে ঝনঝনিয়া পুল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু,আচমকাই এইভাবে রাস্তার নাম বদলে দেওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে নানা মহলে।
আরও পড়ুনঃ ভারতেই বানানো হবে অত্যাধুনিক AMCA ফাইটার জেট ইঞ্জিন! বানাবে রিলায়েন্স ও রোলস-রয়েস
পাল্টে ফেলা হল নতুন বোর্ড
বিতর্ক শুরু হতেই সরিয়ে দেওয়া হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নামাঙ্কিত বোর্ড। শেষ পর্যন্ত একপ্রকার চাপে পড়েই শুক্রবার রাতে ওই রাস্তায় আগের মতো ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোড’ লেখা সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও বিতর্ক এড়াতে শেষ পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদের নামাঙ্কিত সাইনবোর্ড খোলার নির্দেশ দিয়েছেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা।
এপ্রসঙ্গে এদিন তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই না নেতাজির সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির প্রতিযোগিতা হোক।শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে আমরা যেমন সম্মান করি, তেমনি নেতাজিকেও আমাদের হৃদয়ে রাখি। ‘ যদিও একইসাথ তিনি দাবী করেছেন এই রাস্তার কোথাও নেতাজির নামাঙ্কিত কোন বোর্ড লাগানো ছিল না। কোনওদিনই নাকি এমন কোনো বোর্ড দেখা যায়নি।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিরোধীদের কাঠগড়ায় তুলে তার অভিযোগ, ‘যে নেতাজিকে কমিউনিস্টরা হিটলারের দালাল বলেছিল, আজ আবার তারাই নেতাজি প্রীতি দেখাচ্ছে । আমরা কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না, তাই বোর্ডটি খুলে নিতে বলেছি।’













