১৩ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করে বিনিয়োগ এল ১১ মিলিয়ন ডলার! তাক লাগাবে অভিজিৎ-এর কফি স্টার্টআপের সাফল্যের গল্প

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আইআইটি থেকে পড়াশোনা করে বিদেশে বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি, তারপর সেই চাকরি ছেড়ে কফির ব্যবসায় নামা—অভিজিৎ আনন্দের (Abhijeet Anand) সাফল্যের গল্পটা (Success Story) ঠিক এমনই। বিহারের (Bihar) ভাগলপুরের বাসিন্দা অভিজিৎ আইআইটি ধানবাদ থেকে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর প্রায় সাড়ে আট বছর বিভিন্ন দেশে একটি বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করেন। রোমানিয়ায় থাকার সময় নিয়মিত কফি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছিল তাঁর। ২০২১ সালে ভারতে ফিরে এসে অবশ্য তিনি অন্যরকম একটা সমস্যা দেখতে পান। দেশের শহরগুলিতে এক কাপ ভালো কফির জন্য অনেক সময় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। শুধু কফির দাম নয়, ক্যাফের পরিবেশ, বসার জায়গা এবং ওয়াই-ফাইয়ের জন্যও সেই খরচের একটা অংশ দিতে হয়। তখনই তাঁর মনে হয়, মানসম্মত কফিকে যদি আরও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা যায়, তাহলে বড় একটি বাজার তৈরি হতে পারে।

 

ব্যবসায় নামার আগে অবশ্য অনুমানের উপর ভরসা করেননি অভিজিৎ। বাজারের বাস্তব চাহিদা বুঝতে তিনি দেশের ১২টি রাজ্যের প্রায় ২০টি শহর ঘুরে দেখেন। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর ধারণা আরও পরিষ্কার হয়—কফির চাহিদা রয়েছে, কিন্তু বেশি দাম হওয়ার কারণে অনেকেই নিয়মিত কফি পান করতে পারেন না। এরপর ২০২২ সালে কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে নিজের সঞ্চয় থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করেন নতুন উদ্যোগ। ওই বছরের জুনে মুম্বইয়ের ভার্সোভায় খোলা হয় অ্যাবকফির প্রথম আউটলেট। শুরুটা কিন্তু মোটেই ঝকঝকে ছিল না। প্রথম দিকে কোনও কোনও দিনে মাত্র কয়েক কাপ কফি বিক্রি হত। প্রথম মাসে মোট বিক্রি ছিল প্রায় এক লক্ষ টাকা। অভিজিৎ নিজেই সকাল ৬টা থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে থাকতেন, কাজ সামলাতেন এবং ক্রেতাদের মতামত শুনতেন (Success Story)।

আরও পড়ুন: চিনা পণ্য ঘুরপথে আমেরিকায়, নিশানায় ভারত! ‘গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’-এ বড় অভিযোগ

সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে ব্যবসার ছবি। অ্যাবকফির মূল ধারণা ছিল ‘গ্র্যাব-অ্যান্ড-গো’—অর্থাৎ দ্রুত এবং তুলনামূলক কম খরচে পছন্দের কফি হাতে তুলে দেওয়া। অ্যাপের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি আউটলেটে গিয়ে অর্ডার করার সুযোগ রয়েছে। মেন্যুতে ৯৭ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের গরম ও ঠান্ডা কফি, সিগনেচার ব্রু, মাচা এবং প্রোটিন ড্রিঙ্ক রাখা হয়েছে। নিয়মিত গ্রাহকদের ধরে রাখতে লয়্যালটি প্রোগ্রামের পাশাপাশি সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এর ফলে আগেভাগে কফি বুক করে তুলনামূলক কম দামে পাওয়ার সুযোগ থাকছে। অভিজিতের লক্ষ্য ছিল শুধু দাম কমানো নয়, কম খরচে ভালো মানের কফির অভিজ্ঞতা তৈরি করা।

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই সেই মডেল যথেষ্ট বিস্তার পেয়েছে। বর্তমানে মুম্বই, দিল্লি-এনসিআর, বেঙ্গালুরু-সহ ছয়টি বড় শহরে অ্যাবকফির ৯৫টিরও বেশি আউটলেট রয়েছে। এর মধ্যে দিল্লি-এনসিআরে প্রায় ৩৮টি এবং মুম্বইয়ে প্রায় ৫০টি আউটলেট রয়েছে বলে সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩.৫ লক্ষ কাপ কফি বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন আউটলেটে কফির স্বাদ ও মান একই রাখতে অংশীদারদের জন্য ১৪ দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি আউটলেটের কাজকর্ম নজরে রাখা হয়। এই ব্যবসায়িক মডেল দেখে বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। Nexus Venture Partners এবং Tanglin Venture Partners-এর মতো বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংস্থাটি প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করেছে।

আরও পড়ুন: এবার লক্ষ্মণের আদেশ অনুসারে কাজ করতে বাধ্য হবেন গৌতম গম্ভীর? বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে BCCI

ব্যবসার বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রাও। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ৫ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা ২০ কোটি টাকায় পৌঁছনোর অনুমান করা হয়েছিল। বর্তমানে অ্যাবকফি প্রায় ৭৫ কোটি টাকার বার্ষিক পুনরাবৃত্ত রাজস্ব বা ARR নিয়ে এগোচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এবার লক্ষ্য আরও বড়—২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১০০ কোটি টাকার রাজস্বে পৌঁছনো। তবে অভিজিৎ আনন্দের স্বপ্ন শুধু দেশের বাজারে আটকে নেই। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অ্যাবকফিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই তাঁর লক্ষ্য। ভাগলপুরের এক তরুণের বিদেশের চাকরি ছেড়ে শুরু করা ছোট্ট কফির দোকান থেকে ৯৫টির বেশি আউটলেটের এই যাত্রা তাই শুধু একটি স্টার্টআপের সাফল্যের গল্প (Success Story) নয়, বরং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ভালো মানের পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি ব্যবসায়িক ভাবনারও উদাহরণ।