বাংলা হান্ট ডেস্ক : তারাপীঠে (Tarapith) পুণ্যার্থী আসেন শুধু মা তারার দর্শন করতে নয়, এই তীর্থক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা ধর্মীয় রীতির অংশ হতেও। সেই রীতির অন্যতম হল দ্বারকা নদে স্নান করে মন্দিরে পুজো দেওয়া। কিন্তু বছরের অধিকাংশ সময় নদে জল না থাকায় সেই পরম্পরাই এখন সমস্যার মুখে। তার উপর নদে জমছে নোংরা-আবর্জনা। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বারকার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা।
তারাপীঠের (Tarapith) দ্বারকার হাল ফেরাতে নয়া পরিকল্পনা
দ্বারকা নদে যাতে শুধু বর্ষার সময় নয়, সারা বছরই জল ধরে রাখা যায়, তার জন্য চেক ড্যাম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। পাশাপাশি নদটির দুই পাড়কে আরও সুন্দর করে সাজানোর বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন বিধায়ক। ইতিমধ্যেই দাবি জানিয়ে রাজ্যের সেচ ও জলপথ দফতরের মন্ত্রী অরূপকুমার দাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। বিধায়কের এই উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন তারাপীঠের স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারাপীঠের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে দ্বারকা নদের গুরুত্ব অপরিসীম। উত্তরমুখী গতিপথের জন্য এই নদকে অনেক পুণ্যার্থী গঙ্গার সমতুল্য পবিত্র বলে মনে করেন। তাই তারাপীঠে আগত বহু মানুষ মন্দির দর্শনের পাশাপাশি দ্বারকা নদেও স্নান করেন। বর্ষাকালে এই নদে জল বাড়লেও শীত, গ্রীষ্ম কিংবা অন্যান্য সময়ে সেই জল আর সেভাবে দেখা যায় না। ফলে পুণ্যার্থীদের স্নানের জন্য প্রয়োজনীয় জল মেলে না।
দীর্ঘদিন ধরে পরিস্থিতি এমন থাকায় তাঁদের দুর্ভোগও বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দূষণের সমস্যাও। স্থানীয় হোটেল ও লজ থেকে বেরনো বর্জ্য নদে গিয়ে মেশার অভিযোগ রয়েছে। ফলে যে দ্বারকা নদকে পবিত্র বলে মনে করেন ভক্তরা, সেই নদই ক্রমশ দূষণের কবলে পড়ছে। দ্বারকায় জল ধরে রাখার জন্য চেক ড্যাম তৈরির দাবি অবশ্য এই প্রথম নয়। আগের সরকারের সময়েও বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছিল। সেই সময় চেক ড্যাম তৈরির আশ্বাস মিললেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন : প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনায় বড় বদল! নতুন সিলেবাসে কী কী পরিবর্তন আনছে রাজ্য?
ধ্রুব সাহার বক্তব্য, তারাপীঠের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে দ্বারকা নদকে বাঁচানো জরুরি। বছরের বারো মাস নদে জল রাখার ব্যবস্থা করা গেলে পুণ্যার্থীদের সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। দীর্ঘদিনের জলসংকট ও দূষণের সমস্যা কাটিয়ে দ্বারকা নদ যদি ফের প্রাণ ফিরে পায়, তাহলে উপকৃত হবেন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে আসা অসংখ্য পুণ্যার্থীও।













