বাংলা হান্ট ডেস্ক : রান্নার গ্যাসের ই-কেওয়াইসি (LPG e-KYC) নিয়ে গত কয়েকদিনে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষ। কোথাও রান্নার গ্যাসের অ্যাপ খুলছে না, কোথাও আবার সার্ভার বা নেটওয়ার্কের সমস্যায় মাঝপথে আটকে যাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে e-KYC শেষ করা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক উদ্বেগ। সেই পরিস্থিতিতে আপাতত কিছুটা স্বস্তির খবর।
রান্নার গ্যাসের ই-কেওয়াইসি (LPG e-KYC) সময়সীমা বাড়ছে
কেন্দ্রীয় স্তরে e-KYC জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও কয়েকদিন বাড়িয়ে ২৩ অগস্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সময়সীমা বাড়ানো হলেও দুশ্চিন্তার পুরোপুরি অবসান হচ্ছে না। কারণ e-KYC না করলে গ্যাসের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এই নিয়মে আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা দিতে শনিবার, ১৫ অগস্ট ছুটির দিনেও বেশ কিছু ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, দুপুর ১২টা থেকে অফিসে e-KYC সংক্রান্ত কাজ করা হবে। কারণ রান্নার গ্যাস সরবরাহে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না হলে ভবিষ্যতে ভর্তুকির সুবিধা না পাওয়ার পাশাপাশি সিলিন্ডার কিনতে বাড়তি টাকা খরচ হতে পারে বলেও গ্রাহকদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর্স সংগঠনের কর্তা বিজন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ওই সময়সীমার পরেও শুধুমাত্র ইনডেনের ক্ষেত্রেই রাজ্যে আনুমানিক ২২ লক্ষ গ্রাহকের e-KYC বাকি থেকে যেতে পারে। এইচপি গ্যাস এবং ভারত গ্যাসের ক্ষেত্রেও বহু গ্রাহকের e-KYC এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর। তিনটি সংস্থা মিলিয়ে মোট বকেয়া গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষের কাছাকাছি হতে পারে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ থেকেই ই-কেওয়াইসি নিয়মটি কার্যকর হলেও অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। শেষ মুহূর্তে সময়সীমা সামনে চলে আসতেই তাই পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে গ্যাসের দাম নিয়ে। e-KYC না থাকলে একটি সিলিন্ডারের জন্য প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে চাইছেন গ্রাহকরা।

আরও পড়ুন : ২০৩৬-এর অলিম্পিক ভারতে আয়োজনের লক্ষ্য! দেশজুড়ে হবে ট্যালেন্ট হান্ট, স্বাধীনতা দিবসে বড় ঘোষণা মোদীর
উল্লেখ্য, গ্যাস সংস্থাগুলিও জানিয়েছে, e-KYC করার জন্য অনলাইন এবং অফলাইন—দুই ব্যবস্থাই চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার অ্যাপ ব্যবহার করে বাড়িতে বসেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়। আবার প্রযুক্তি ব্যবহারে অসুবিধা হলে সরাসরি ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়েও কাজটি করানো সম্ভব। গ্যাসের ই-কেওয়াসির সময়সীমা ২৩ অগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর খবর কিছুটা স্বস্তি মিলেছে গ্রাহকদের। এখন দেখার, নতুন সময়সীমার মধ্যে কত দ্রুত বকেয়া e-KYC শেষ করা যায়।













