৩ মাসের জন্য পরিবর্তন! লখনউ-দিল্লি তেজস এক্সপ্রেস পেল নতুন নাম, কেন হল এমন?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: লখনউ-দিল্লি রুটের তেজস এক্সপ্রেস (Tejas Express) এবার যাত্রীদের কাছে কিছুটা অন্যরকম নামেই পরিচিত হতে চলেছে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ট্রেনটির নামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় নরম পানীয়ের ব্র্যান্ড ‘স্প্রাইট’ (Sprite)। আইআরসিটিসি (IRCTC) জানিয়েছে, আগামী ১৯ অগস্ট থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত লখনউ-দিল্লি-লখনউ তেজস এক্সপ্রেসের নাম হবে ‘স্প্রাইট তেজস এক্সপ্রেস’। অর্থাৎ প্রায় তিন মাস ধরে ৮২৫০১ এবং ৮২৫০২ নম্বরের এই ট্রেনটির নাম ও গায়ে স্প্রাইটের ব্র্যান্ডিং দেখা যাবে। রেলের ইতিহাসে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনও ট্রেনের নামের সঙ্গে সরাসরি একটি ব্র্যান্ড যুক্ত হওয়ার ঘটনা বলেই এটিকে দেখা হচ্ছে।

৩ মাসের জন্য লখনউ-দিল্লি তেজস এক্সপ্রেস (Tejas Express) পেল নতুন নাম

মূলত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে রেলের আয় বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। এতদিন বিভিন্ন ট্রেনের কামরার বাইরের অংশে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ ছিল বেসরকারি সংস্থাগুলির। এবার সেই প্রচার আরও এক ধাপ এগিয়ে ট্রেনের নামের সঙ্গেও ব্র্যান্ড যুক্ত করা হচ্ছে। লখনউ-দিল্লি তেজস এক্সপ্রেসটি (Tejas Express) আইআরসিটিসি পরিচালিত হলেও ভারতীয় রেলের পরিকাঠামো ব্যবহার করে। এর জন্য আইআরসিটিসিকে রেলকে নির্দিষ্ট ‘হোলিং চার্জ’ দিতে হয়, যার মধ্যে ট্র্যাক এবং স্টেশন ব্যবহারের খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে বিজ্ঞাপন থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে শুরু করেন গরুর খামার! দুধ-ঘি বেচেই বার্ষিক ২.৪ কোটির টার্নওভার বিভোর-ঈশিতার

২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর দেশের প্রথম কর্পোরেট বা বেসরকারিভাবে পরিচালিত আইআরসিটিসি তেজস এক্সপ্রেস হিসেবে এই পরিষেবার সূচনা হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ লখনউ থেকে নয়াদিল্লিগামী ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রথম থেকেই আধুনিক পরিষেবার কারণে যাত্রীদের মধ্যে এই ট্রেন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। সম্পূর্ণ এসি এই সুপারফাস্ট ট্রেনটিতে রয়েছে ১৯টি কামরা। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ট্রেনটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা, স্মোক ও ফায়ার ডিটেকশন ব্যবস্থা, বায়ো-ভ্যাকুয়াম টয়লেট, জিপিএস এবং ওয়াই-ফাইয়ের মতো একাধিক পরিষেবা রাখা হয়েছে।

শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধাই নয়, যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রেও তেজস এক্সপ্রেসকে অন্য অনেক ট্রেনের তুলনায় আলাদা করে সাজানো হয়েছে। ট্রেনের ভিতরে অন-বোর্ড খাবার ও পানীয় পরিবেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে দীর্ঘপথের যাত্রায় যাত্রীদের একাধিক সুবিধা একই সঙ্গে পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি দলবদ্ধ যাত্রীদের জন্য রয়েছে বিশেষ বুকিংয়ের সুবিধাও। কোনও কর্পোরেট সংস্থার বৈঠক, বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো ক্ষেত্রে একসঙ্গে অনেকজন ভ্রমণ করলে তাঁরা ৭৮ আসনের একটি সম্পূর্ণ এসি চেয়ার কার কোচ বুক করতে পারেন।

Lucknow-Delhi Tejas Express gets a new name for 3 months.

আরও পড়ুন: ৭ শক্তিতে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য! স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ‘সপ্তধারা’-র ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

তবে ‘স্প্রাইট তেজস এক্সপ্রেস’ নামটি স্থায়ী নয়। ১৯ অগস্ট থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই এই ব্র্যান্ডিং কার্যকর থাকবে। এরপর ট্রেনটি ফের তার প্রচলিত নামেই চলবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় রেলে বিজ্ঞাপনের নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যাত্রী পরিষেবা বজায় রেখে ট্রেনের ব্র্যান্ডিং থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে অন্য ট্রেনেও একই ধরনের বাণিজ্যিক উদ্যোগ দেখা যেতে পারে। ফলে তেজস এক্সপ্রেসের নতুন নাম শুধু বিজ্ঞাপনের বিষয় নয়, রেলের রাজস্ব বাড়ানোর নতুন কৌশল হিসেবেও নজর কাড়ছে।