বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রবিবার সকালে আচমকাই আত্মহত্যা করেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আশীস বন্দ্যোপাধ্যায় (Asish Banerjee)। তাঁর মৃত্যু নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে। এপ্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জনিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (CM Suvendu Adhikari)। অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘২০০৬ সালে মাত্র গুটিকতক কয়েকজন এমএলএ ছিল তাঁদের মধ্যে উনিও ছিলেন আমিও ছিলাম। তো স্বাভাবিক ভাবেই এটা আমার খুব বেদনা লেগেছে।’
আশীস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
একইসাথে তাঁর সংযোজন, ‘পুলিশকে বলেছি পরিবারের পাশে এইসময় সম্পূর্ণ থাকা দরকার। স্থানীয় বিধায়ক ধ্রুব সাহাকে ম্যাসেজ করেছি, তিনি কলকাতার এটি কর্মসূচিতে আছেন। তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি। বীরভূমের আমাদের বোলপুরের এমপি অসিত মাল মহোদয় ওনার বাড়িতে ছিলেন। অসিত মাল মহোদয় আমাকে প্রথমে ফোন করেন। বললেন যে বৌদি কথা বলতে চাইছেন। তখন আমি আমার ফোন থেকে ভিডিও কল করি। ওনার পুরো পরিবার এক জায়গায় ছিল। এখানে আমি তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি, পাশে থাকার অঙ্গীকার দিয়েছি এবং ওরা শোক সামলে নিক, সামলে নেওয়াটা খুব কঠিন।’
পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘ওনাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ওদেরকে উত্ত্যক্ত করেছে কিনা, কোনো কিছু ঘটেছে কিনা এই ১০০ দিনের মধ্যে। উনি বলেছেন না ধ্রুব সাহা তো জেতার পরে বাড়িতে এসে প্রণাম করেছেন। ধ্রুব সাহাকেও আমি ফোন করেছিলাম উনি ওনার বাড়ি থেকে প্রণাম করে এসেছেন, আশীর্বাদ নিয়ে এসেছেন।’
আরও পড়ুনঃ ‘খেলা হবে দিবসের নামে রক্ত নিয়ে খেলেছেন!’ মমতাকে নিশানা করে বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবী, ‘সাথে সাথে তারাপীঠ ডেভেলপমেন্ট স্তরে বলুন বা পুলিশ প্রদর্শন স্তরে বলুন কোন চিঠি করেনি, ডাকেনি কখনও। উনি খুব পিসফুলি ছিলেন ওখানে। অত শাসকদলের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে যে ক্ষমতা ওনার ছিল সেটা চলে গিয়েছিল কিন্তু স্বাভাবিক জীবনযাপন উনি করতেন, সবার সঙ্গে মিশতেন । বাড়ির লোক তো বলছেন সবার সঙ্গে ওনার সম্পর্ক ভালো বিজেপির লোকজন তো অধিকাংশ ওনার ছাত্র। ওনার দাদা সম্ভবত একজন শিক্ষক। ‘
প্রয়াত তৃণমূল নেতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু বলেছেন, ‘তো আমি তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছি, আর বলেছি পুলিশকে একটু সহযোগিতা করতে। উনি যে মোবাইল ফোন ইউজ করতেন সেগুলো যদি পুলিশকে দেন পুলিশ তদন্ত করে দেখবে যে দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো লোক ওনাকে ভয় দেখিয়েছে কিনা, যে আপনার নাম বলে দেব, অমুক করে দেব।
আরও পড়ুনঃ এক দশক পেরিয়ে বাড়ল WBHS এ চিকিৎসার রেট, কতটা সুবিধা? জানাল হাসপাতাল সংগঠন
কারণ হিসাবে তাঁর সংযোজন, ‘তৃণমূলের যে অংশটা মমতা ব্যানার্জির সাথে আছে সেই অংশটার সাথে ওনার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। কারণ নির্বাচনের পর মমতা ব্যানার্জি যে কমিটিটা তৈরি করেছিলেন সেই কমিটি থেকে উনি পদত্যাগ করেছিলেন , এবং তিনি মমতা পন্থী তৃণমূল থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন।’
সবশেষে তিনি বলেছেন, ‘আশীস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে একজন শিক্ষাবিদ, সজ্জন রাজনীতিবিদ। তাঁর ফলোয়ারদের মধ্যে অনেক বিতর্ক আছে। কারণ তৃণমূলের সবাই জানে একটা ল্যাম্পপোস্ট। তাই ওনার সহযোগীরা যারা রামপুরহাটে রাজনীতি করতেন তাদেরকে আমি সার্টিফিকেট দিতে পারবো না।’













