বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে অবশেষে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প (Ayushman Bharat) । রবিবার, ১৬ অগস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনাও চালু করা হয়। ফলে একদিকে কয়েক কোটি মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় চিকিৎসার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে রাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে বহু মানুষের।
আয়ুষ্মান ভারত(Ayushman Bharat) প্রকল্পের উপভোক্তা বাছাই হচ্ছে কীভাবে ?
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উপভোক্তা হিসেবে নাম কী ভাবে নিশ্চিত হবে এই প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই বিষয়েই রবিবার বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। সরকারি তথ্যভান্ডারে নাম রয়েছে কি না, রেশন কার্ডের তথ্যের সঙ্গে তা মেলে কি না এবং e-KYC সম্পূর্ণ হয়েছে কি না—এই ধাপগুলির ভিত্তিতেই মূলত যোগ্যতা যাচাই করা হবে।
প্রথমেই আয়ুষ্মান ভারতের নির্দিষ্ট ডেটাবেসে নিজের নাম খুঁজে দেখতে হবে। নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সেই তালিকায় নাম থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। সরকারি তথ্যভান্ডারে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তালিকায় নাম না মিললে তখন দেখা হবে ২০১৩ সালের জাতীয় খাদ্যসুরক্ষা আইন অনুযায়ী তৈরি তিন ধরনের রেশন কার্ডের তথ্যভান্ডারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম রয়েছে কি না। সেই তালিকায় নাম পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে যাচাই করা হবে e-KYC সম্পূর্ণ হয়েছে কি না।
e-KYC হয়ে থাকলে উপভোক্তাকে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া এগোলে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে তার বর্তমান অবস্থাও জানা যাবে। কিন্তু e-KYC এখনও না হয়ে থাকলে বুঝতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সমীক্ষা বা তথ্য যাচাইয়ের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। সেক্ষেত্রে আগে e-KYC প্রক্রিয়াটি শেষ করতে হবে। আর যদি জাতীয় খাদ্যসুরক্ষা আইনের তথ্যভান্ডারেও নাম না পাওয়া যায়, তাহলে আয়ুষ্মান ভারত নয়, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
এ দিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার আসবে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৮০ লক্ষ রাজ্যবাসী মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। দুই প্রকল্প মিলিয়ে দেশের ৩৮,৬০৪টি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারতের আর্থিক ভাবে দুর্বল যোগ্য পরিবারগুলির জন্য সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালেও বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। চিকিৎসার সময় নগদ টাকা খরচ না করেই নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পরিষেবা নেওয়ার সুযোগ মিলবে।

আরও পড়ুন : ১৫ দিনে ৫৩ লক্ষ সেলফ এনুমারেশন! ডিজিটাল জনগণনায় গোটা দেশে এগিয়ে বাংলা
রাজ্যে নয়া স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু হওয়ার সঙ্গে উপভোক্তাদের সামনে কোন প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত করবেন তা বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে সরকার। তাই তালিকায় নাম আছে কি না, e-KYC-এর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না এবং প্রয়োজন হলে কোন প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে হবে—এই তিনটি বিষয় আগে নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি। তবেই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে গিয়ে অযথা বিভ্রান্তি বা হয়রানির সম্ভাবনা কমবে।













