বাংলা হান্ট ডেস্ক : তারাপীঠে রাতের অন্ধকারে হোটেলে অগ্নিকান্ডের (Tarapith Hotel Fire) জেরে একের পর এক প্রাণহানি। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ঘটনার পর হোটেলের মালিককে আটক করেছে পুলিশ এবং গোটা হোটেলটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গোটা ঘটনায় আঙুল উঠছে TRDA-এর দুর্নীতির দিকেই।
তারাপীঠ হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের (Tarapith Hotel Fire) পেছনে সেই ‘TRDA’
হোটেলের আবাসিকদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর কোনও ফায়ার অ্যালার্ম শোনা যায়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার জন্য থাকা এমার্জেন্সি এক্সিট গেটটি নাকি তালাবন্ধ ছিল। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যালকনিতে গিয়ে পাইপ ধরে নীচে নেমে প্রাণ বাঁচান। এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন। আগুন লাগার সময় হোটেলের জরুরি ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করেছিল কি না, আবাসিকদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ। মালিকের দাবি, অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হোটেলে ছিল। দমকলের তরফেও জানানো হয়েছে, ভবনে সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু আগুনের সঙ্গে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সিঁড়ির পাশের জানলাগুলি বন্ধ থাকায় সেই ধোঁয়া বাইরে বেরোনোর পথ পায়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগুনের চেয়েও ধোঁয়া অনেকের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে হোটেলের একতলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি-তে আগুন দেখতে পান কর্মীরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁরা অন্যদের সতর্ক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন দ্রুত ছড়াতে শুরু করেছে। হোটেলে থাকা ফাইবারজাত বিভিন্ন সামগ্রী আগুনের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয় বলে জানা যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ও ধোঁয়া বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তখন যে যেভাবে পেরেছেন বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়েও সরব হয়েছেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রব সাহা। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ভাবে হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করেছে কি না, সেটাই এখন তদন্ত করা দরকার।

আরও পড়ুন : আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুইসাইড নোটে TRDA দুর্নীতি প্রসঙ্গ! কী এই দুর্নীতি জানেন?
টিআরডিএ-র বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিধায়কের দাবি, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এতগুলি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। শুধু এই হোটেল নয়, রামপুরহাট-তারাপীঠ এলাকায় আরও একাধিক হোটেলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তারাপীঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রে এই অগ্নিকাণ্ড সব হোটেলের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এখন তদন্তের রিপোর্টের দিকেই নজর সকলের।













