বাংলা হান্ট ডেস্ক : বেসরকারি দোকান থেকে চড়া দামে ওষুধ বা চিকিৎসার সরঞ্জাম কিনতে গিয়ে রোগীর পরিবারের পকেটে যে চাপ পড়ে, তা কমাতেই এবার সরকারি হাসপাতালেই ‘অমৃত ফার্মেসি’ (Amrit Pharmacy) ব্যবস্থা করছে রাজ্য। ‘অমৃত ফার্মেসি’ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ তো বটেই, স্টেন্ট, ক্যানসারের ওষুধ কিংবা চোখের লেন্সের মতো দামি চিকিৎসা সামগ্রীও বাজারের তুলনায় অনেক কম খরচে কেনার সুযোগ মিলবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ছাড়ের পরিমাণ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
‘অমৃত ফার্মেসি’ (Amrit Pharmacy) থেকে কি সুবিধা পাওয়া যাবে ?
‘অমৃত ফার্মেসি’ কীভাবে কাজ করবে এবং সাধারণ রোগীরা এর মাধ্যমে কী সুবিধা পাবেন, তা বিস্তারিতভাবে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের প্রায় ১০০টি সরকারি হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই হাসপাতাল চিহ্নিত করার কাজ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বড় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলির কাছাকাছি জায়গাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনরা সহজেই এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন বুঝে ফার্মেসির সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। সরকারি হাসপাতালের ভিতরে এই পরিষেবা চালানোর জন্য একটি সংস্থার সঙ্গে ইতিমধ্যেই সমঝোতাপত্রে সই করেছে রাজ্য সরকার। তবে ছাড়ে ওষুধ বা চিকিৎসা সামগ্রী পেতে গেলে রোগীর প্রেসক্রিপশন ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পরিচয়পত্রও চাওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, এই ফার্সমেসিতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রীতে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা রোগী কিংবা বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে এমন পরিবারের ক্ষেত্রে এই ছাড় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দামি চিকিৎসা সরঞ্জামের তালিকাতেও রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী। স্টেন্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেশ কিছু ওষুধ এবং চোখের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় লেন্সও কম দামে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, যে চিকিৎসাগুলিতে সাধারণত বিপুল টাকা খরচ হয়, সেখানেও ‘অমৃত ফার্মেসি’ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে রোগীর পরিবারকে।

আরও পড়ুন :১০ জুলাইয়ের পর আবেদন করেছেন? অন্নপূর্ণার ৩,০০০ টাকা কবে পাবেন, জানিয়ে দিল সরকার
স্বাস্থ্য পরিষেবায় রাজ্যের নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য শুধু বিমার আওতায় রোগীকে আনা নয়, চিকিৎসার খরচ কমানো এবং হাসপাতালের পরিষেবার উপর নজরদারি। ‘অমৃত ফার্মেসি’ যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও সরকারি হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে দামি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের খরচ নিয়ে বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কমতে পারে।













