বাংলা হান্ট ডেস্ক: ২০২৬-এর ১৮ অগাস্ট, অর্থাৎ মঙ্গলবারে টাটা সন্সের (Tata Sons) বার্ষিক সাধারণ সভা তথা AGM (Annual General Meeting) সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়েছে। মূলত, কোরামের (সভার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা) কমতির জন্যই এই সভা স্থগিত হয়। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, টাটা গ্রুপের (Tata Group) এই হোল্ডিং কোম্পানির ইতিহাসে এই প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল। এই AGM বোম্বে হাউসে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। যেখানে কিছু স্টেকহোল্ডার্স অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন। টাটা সন্সের ২ টি প্রধান নিয়ন্ত্রক ট্রাস্টের অন্যতম স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট (SDTT) কোম্পানিকে জানিয়েছিল যে, স্যার রতন টাটা ট্রাস্টের (SRTT) জন্য মহারাষ্ট্র চ্যারিটি কমিশনারের অনুমোদন না থাকায় কোনও যৌথ প্রতিনিধি বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিতে পারবেন না। যার ফলে সভার জন্য কোরামের অভাব দেখা দেয়। টাটা সন্সের অপর প্রধান নিয়ন্ত্রক ট্রাস্ট SDTT, আগেই টাটা সন্সকে জানিয়েছিল যে AGM-এর জন্য ট্রাস্টগুলির প্রয়োজনীয় কোরাম ছিল না। জানিয়ে রাখি যে, টাটা সন্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারিত্বের অধিকারী ২ টি প্রধান ট্রাস্টের অন্যতম SRTT-র ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেননি চ্যারিটি কমিশনার।
ইতিহাসে এই প্রথম! স্থগিত টাটা সন্সের (Tata Sons) বার্ষিক সাধারণ সভা:
চন্দ্রশেখরনের আপডেট: উল্লেখ্য যে, টাটা ট্রাস্টসের ঘনিষ্ঠ আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা টাটা সন্সকে কোরামের অভাবের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা কোম্পানিকে AGM স্থগিত করতে বাধ্য করতে পারেননি। ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবগত এক আধিকারিক বলেছেন যে, আইনত সভাটি ডাকার ক্ষমতা থাকলেও, তাঁদের তা স্থগিত করতে হবে। AGM-কে ঘিরে অনিশ্চয়তা টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরনের অবস্থার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যিনি রোটেশনের ভিত্তিতে অবসর নিতে চলেছেন। আর্টিকেলস অফ অ্যাসোসিয়েশন সংক্রান্ত তথ্য জানা আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, কোরামের অভাবে যদি ১৮ অগাস্টের সভা যথাযথভাবে সম্পন্ন না হয়, তবে একটি যথাযথ বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চন্দ্রশেখরন ডাইরেক্টর হিসাবে বহাল থাকবেন। ওই সভায় তাঁর পুনর্নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

টাটা সন্সে শেয়ারের পরিমাণ কত: আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, টাটা ট্রাস্টসের কিছু ট্রাস্টি ব্যক্তিগতভাবে চ্যারিটি কমিশনারের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। মনে করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ আসলে এই কারণে গ্রহণ করা হয়েছে যে, SDTT, SRTT-র কাছ থেকে এই ধরণের প্রতিকার চাইতে পারে না। টাটা সন্সে SRTT এবং SDTT উভয়েরই মোট ৫১.৫৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। যার মধ্যে SRTT-র শেয়ার প্রায় ২৩.৫ শতাংশ এবং SDTT-র প্রায় ২৮ শতাংশ। SRTT বোর্ডের গঠন এবং আইনের ধারা 30A(2)-এর কথিত অ-পালন সম্পর্কে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চ্যারিটি কমিশনার মহারাষ্ট্র পাবলিক ট্রাস্ট আইনের ধারা 36A(1)-এর অধীনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। ধারা 30A(2) বোর্ডে স্থায়ী বা জীবন-মেয়াদী ট্রাস্টিদের অনুমোদিত সংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। আইনের একটি সাম্প্রতিক সংশোধনী একটি পাবলিক ট্রাস্ট বোর্ডে কর্মরত স্থায়ী ট্রাস্টিদের সংখ্যার ওপর একটি আইনি সীমা নির্ধারণ করে।
আরও পড়ুন: এবার বিদেশেও ছুটবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস! এই দেশগুলির দিকে নজর ভারতীয় রেলের
চন্দ্রশেখরনের দিকে নজর: জানিয়ে রাখি যে, কোম্পানি আইন অনুসারে, রোটেশনের মাধ্যমে অবসরের কারণে অবসরপ্রাপ্ত ডাইরেক্টর সংশ্লিষ্ট বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) পর্যন্ত নিজ পদে বহাল থাকেন, যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের অবশ্যই হয় সেই ডাইরেক্টরকে পুনর্নিয়োগ করতে হয় অথবা শূন্যপদটি পূরণ করতে হয়। তবে, কোরামের অভাবে বার্ষিক সাধারণ সভা যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলে তার পরিণতি কী হবে, তা আইনে স্পষ্টভাবে বলা নেই।
তাই, টাটা সন্সের গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয় কোরাম পূরণে ব্যর্থ হওয়া বার্ষিক সাধারণ সভার আইনি প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জানিয়ে রাখি যে, চন্দ্রশেখরন ২০১৬ সালের অক্টোবরে টাটা সন্সের বোর্ডে যোগ দেন এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে চেয়ারম্যান হন। বোর্ডে থাকতে হলে তাঁকে ডাইরেক্টর হিসাবে পুনর্নিয়োগ পেতে হবে। কারণ চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর পদটি আইনত ডাইরেক্টর হিসাবে তাঁর অব্যাহত থাকার ওপর নির্ভরশীল। এদিকে, চন্দ্রশেখরন ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হলে তিনি পুনঃনিয়োগের জন্য আবেদন করবেন না।













