বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ জনের মৃত্যুর পর এবার হোটেলটির অনুমতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তাঁর প্রশ্ন, কলকাতা পুরসভা, ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্ট এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ছাড়পত্র ছাড়া এই হোটেল চলছিল কী ভাবে? ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি হোটেলের ট্রেড লাইসেন্স এবং অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অনুমতি নিয়ে অগ্নিমিত্রার (Agnimitra Paul) প্রশ্ন
রাতের এই ঘটনায় গোটা নিউ মার্কেট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলের স্যুইচ বোর্ড অথবা এসি থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে আসল কারণ এখনও জানা যায়নি। কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দলও পৌঁছেছে। আগুন কোথা থেকে শুরু হয়েছিল এবং কী ভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ দল তৈরি করা হবে। তাঁর বক্তব্য, হোটেলটিকে কী ভাবে অনুমতি দেওয়া হল এবং ট্রেড লাইসেন্সই বা কী ভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা জানা জরুরি। এই প্রসঙ্গে নাম না করে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অগ্নিনিরাপত্তার কথা বলতে গিয়ে তারাপীঠের উদাহরণ দেন অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তাঁর দাবি, সেখানে অনেক হোটেলে ভাল এক্সিট থাকলেও তা বন্ধ রাখা হত, যাতে গ্রাহক টাকা না দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারেন। তাঁর মতে, ব্যবসার সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তার দিকটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ফায়ার অ্যালার্ম নিয়েও প্রশ্ন
দমকলের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘন ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। আগুনে ঝলসে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকাজের সময় দমকলকর্মীদেরও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
হোটেলের আবাসিকদের একাংশের অভিযোগ, সেখানে ঠিকমতো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি আগুন লাগার পর ফায়ার অ্যালার্মও বাজেনি বলে অভিযোগ। ফলে অনেকে সময়মতো বিপদের খবর পাননি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, হোটেলের মালিক পলাতক বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। হোটেল মালিকের কোনও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ
মৃত ৯ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র একজনের দেহ শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের পরিচয় জানার কাজ চলছে। আগুনের আসল কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফায়ার অ্যালার্ম এবং জরুরি বেরোনোর পথ, সব দিকই এখন পুলিশ ও ফরেন্সিক দলের তদন্তের আওতায়।













