ভারতের নির্বাচন পদ্ধতিতে ‘মুগ্ধ’ ট্রাম্প! তুললেন জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ, কী জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকার (America) নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটারদের পরিচয় যাচাই আরও কঠোর করার পক্ষে ফের সওয়াল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এই বিতর্কে ভারতের (India) নির্বাচনী পদ্ধতিকেই উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ভারতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিলেও ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করে ট্রাম্প ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন হয়, তা নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার।

ভারতের নির্বাচন পদ্ধতিতে ‘মুগ্ধ’ ট্রাম্প (Donald Trump), তুললেন জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ:

এই প্রসঙ্গেই আমেরিকায় ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাশ করার দাবি আরও জোরালো করেছেন ট্রাম্প। ভারতের ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে এক শতাংশেরও কম ভোটার পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার করেছিলেন। ট্রাম্পের (Donald Trump) বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ছবি-সহ পরিচয়পত্র ব্যবহারের বিষয়টি ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাঁর মতে, আমেরিকাতেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এই দাবিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও। তাঁর বক্তব্য, ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সর্বজনীন ফটো আইডি নির্বাচনী স্বচ্ছতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা পাওয়ার যোগ্যদেরও হেনস্থা করছে’! এবার বিস্ফোরক অর্জুন, কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ?

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এর মূল লক্ষ্য হল ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার হিসেবে শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। প্রস্তাবিত আইনে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার সময় বৈধ পরিচয়পত্রের পাশাপাশি নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দেওয়ার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকযোগে ভোটদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত যাচাই ও বিধিনিষেধ আনার প্রস্তাব রয়েছে। নির্বাচনে অনিয়ম ঠেকানো এবং ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে মতপার্থক্যও রয়েছে।

‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। নির্বাচনী ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোখার যুক্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই ধরনের আইনের পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। গত ২৯ জানুয়ারি বিলটি পেশ করা হলেও এখনও তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান—দুই দলের মধ্যেই বিলটির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। মার্কিন সেনেটেও এখনও সেটি পাশ করার বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ হয়নি। ফলে ট্রাম্পের দাবি বাস্তবায়িত করতে হলে আগামী দিনে কংগ্রেসে এই বিল নিয়ে আরও রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে।

Donald Trump 'impressed' by India's electoral process and mentioned Gyanesh Kumar.

আরও পড়ুন: জল বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগ! গ্রেফতার দিল্লির প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈন

আমেরিকার ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের সঙ্গে ভারতীয় ব্যবস্থার তুলনা করতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের তরফেও বলা হয়েছে, বিশ্বের একাধিক দেশের তুলনায় আমেরিকার ব্যবস্থা এখনও তুলনামূলকভাবে কম কঠোর। তাদের বক্তব্য, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি ও তথ্যভান্ডারের ব্যবহার রয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকায় নাগরিকত্বের প্রমাণের ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেকটাই স্বঘোষণার উপর নির্ভর করতে হয় বলে দাবি করেছে ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন। ফলে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সামনে রেখে আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম বদলের যে দাবি উঠেছে, তা আগামী দিনে মার্কিন রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে।