বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের বাজারে চিনির দাম (Sugar Price) নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র। প্রায় এক দশক পর ফের বিদেশ থেকে চিনি আমদানির কথা ভাবছে ভারত (India)। এতদিন চিনি উৎপাদনে দেশ শুধু স্বনির্ভরই ছিল না, বরং বিশ্বের অন্যতম বড় রফতানিকারক হিসেবেও পরিচিত ছিল। কিন্তু চলতি মরশুমে আখের জোগান কমে যাওয়া এবং ইথানল (Ethanol) উৎপাদনে আখের রসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলেছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাড়ছে দাম। সেই চাপ সামলাতেই প্রাথমিক ভাবে প্রায় ১০ লক্ষ টন চিনি শুল্কমুক্ত ভাবে আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
চিনির দাম (Sugar Price) নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র:
চিনির (Sugar Price) বাজারে এই টানাটানির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। অনিয়মিত বর্ষার কারণে বেশ কিছু এলাকায় আখের উৎপাদন প্রত্যাশামতো হয়নি। তার উপর গত কয়েক বছরে দেশে ইথানল উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র। জ্বালানি মিশ্রণে ইথানলের ব্যবহার বাড়াতে চিনি কল ও সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলিকে উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আখের রসের একটি বড় অংশ ইথানল তৈরিতে চলে যাওয়ায় চিনি উৎপাদনের জন্য মিলগুলিতে কাঁচামালের জোগান কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি ইথানল কারখানাগুলি কৃষকদের কাছ থেকে আখ কিনতে তুলনামূলক বেশি দাম দেওয়ায় চিনি কলগুলির উপরও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে একদিকে উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে বাজারের চাহিদা একই রয়েছে।
আরও পড়ুন: নিম্নচাপ কাটলেও এখনই কমছে না বৃষ্টির দাপট! আজ কেমন থাকবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া?
এই পরিস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের বাজারে দেখা যাচ্ছে। মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিনি উৎপাদন ও বাণিজ্যকেন্দ্র, সেখানে প্রতি কুইন্টাল চিনির দাম ৫৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে জানা গিয়েছে। চলতি মরশুমে এটিকে রেকর্ড দাম হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দেশজুড়ে পাইকারি বাজারে গড় দামও কেজিপ্রতি প্রায় ৫২.৩ টাকায় পৌঁছেছে। খুচরো বাজারে পরিস্থিতি আরও চাপের। বিভিন্ন শহরে এক কেজি চিনির দাম ৫৮ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। দাম এভাবে বাড়তে থাকলে শুধু সাধারণ পরিবারের রান্নাঘরের বাজেট নয়, মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য তৈরির খরচও বাড়তে পারে।
আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ সামনে উৎসবের মরশুম। দুর্গাপুজো, দীপাবলি-সহ একাধিক বড় উৎসবের সময়ে মিষ্টি ও বিভিন্ন মিষ্টিজাতীয় খাবারের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। ফলে এখন থেকেই বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে উৎসবের সময়ে চিনির দাম আরও বাড়তে পারে। সেই কারণেই সরকার আপাতত আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি মেটানোর কথা ভাবছে। তবে বাজারে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানি করলেও দাম রাতারাতি অনেকটা কমবে না। প্রাথমিকভাবে প্রতি কুইন্টালে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে আরও আমদানির সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন: পাঞ্জাবে বদলে যাচ্ছে জনবিন্যাস! সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে শিখরা, বেশি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ অকাল তখতের
ভারতের এই সম্ভাব্য আমদানির খবর আন্তর্জাতিক চিনির (Sugar Price) বাজারেও নজর কেড়েছে। কারণ সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট চিনির চাহিদার প্রায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ করে ভারত। ফলে যে দেশ এতদিন আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি রফতানি করে এসেছে, সেই দেশই এবার ঘাটতি মেটাতে বিদেশের বাজারের দিকে তাকানোয় বিশ্ববাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের মূল লক্ষ্য এখন উৎসবের আগে দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম ধরে রাখা। তবে ইথানল উৎপাদন ও চিনি উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, সেটিই আগামী দিনে কেন্দ্রের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।













