বাংলাহান্ট ডেস্ক: উৎসবের মরশুম সামনে রেখে দেশে (India) চিনির দাম (Sugar Price) নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার মজুতদারির বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government of India)। শুধু বিদেশ থেকে চিনি আমদানির সম্ভাবনাই নয়, দেশের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখতেও ব্যবসায়ীদের মজুতের উপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি কেনাবেচা করেন এমন ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট সময়ের বেশি চিনি গুদামে আটকে রাখতে পারবেন না। কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে এবং ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। অর্থাৎ দুর্গাপুজো, দীপাবলি-সহ উৎসবের ব্যস্ত মরশুমে বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
চিনির দাম (Sugar Price) নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের গুদামে থাকা চিনি (Sugar Price) বাজারে ছাড়তে হবে। নিয়মটি ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে প্রশাসনের তরফে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিদর্শন ও অভিযান চালানোর কথাও জানানো হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল কৃত্রিম ভাবে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে দাম বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকানো। কারণ উৎসবের সময়ে মিষ্টি, বেকারি সামগ্রী, পানীয় এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে চিনির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। ফলে সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও খুচরো বাজারে দামের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কেন্দ্র তাই আগেভাগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন:চিন-পাকিস্তানকে নজরে রেখে নয়া সমীকরণ, প্রতিরক্ষায় ভারত-জাপানের বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়
এরই মধ্যে দেশের চিনি বাজারে সরবরাহের চাপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় এক দশক পর ভারত ফের বড় পরিমাণে চিনি আমদানির কথা বিবেচনা করছে। বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতদিন ভারত শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাত না, বরং বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিনি বিদেশেও রপ্তানি করেছে। কিন্তু চলতি বছরে উৎপাদন ও চাহিদার সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। একদিকে আখের ফলন নিয়ে চাপ রয়েছে, অন্যদিকে ইথানল উৎপাদনের জন্য আখের রস ও অন্যান্য কাঁচামালের চাহিদা বেড়েছে। ফলে চিনির জন্য প্রয়োজনীয় আখের জোগানেও তার প্রভাব পড়ছে।
কেন্দ্র গত কয়েক বছরে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মেশানোর লক্ষ্যে দেশে ইথানল উৎপাদন বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে আখ থেকে তৈরি ইথানলের চাহিদা বেড়েছে এবং ইথানল কারখানাগুলিও কৃষকদের কাছ থেকে আখ সংগ্রহ করছে। একই সময়ে অনিয়মিত বর্ষার কারণে কিছু এলাকায় আখের উৎপাদনও প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ইথানলের জন্য আখের চাহিদা বৃদ্ধির এই দ্বৈত চাপ চিনিকলগুলির কাঁচামাল সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। স্বাভাবিক ভাবেই তার প্রভাব পড়ছে চিনি উৎপাদনেও। বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগান কম হলে দাম বাড়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: ইয়েমেন-সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুর কবলে দুই মালবাহী জাহাজ, বন্দি ২২ ভারতীয়!
দেশে চিনির (Sugar Price) চাহিদা এমনিতেই বিপুল, আর উৎসবের মরশুমে সেই চাহিদা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখন থেকেই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা না গেলে আগামী দিনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। চিনির দাম বাড়লে শুধু সাধারণ ক্রেতাই নন, মিষ্টি প্রস্তুতকারক থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্যপ্রস্তুতকারী সংস্থাও সমস্যায় পড়তে পারে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামেও। সেই কারণেই আমদানির সম্ভাবনার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মজুতদারি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বাজারে চিনির সরবরাহ এবং খুচরো দামে তার কতটা প্রভাব পড়ে।













